কৃষি ও কৃষক নিয়ে না ভাবলে চলে না?
হ্যাঁ, চলেই তো! দিব্যি চলে যায়!
কারণ, জাতে চাষা-ভূষা, নেই মুখে ভাষা—
মুখ ফুটে তাই টু শব্দটিও করে না।
নীরবে, নিভৃতে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
রাজন্যদের তাই চোখেও পড়ে না।
ভাবনা নেই, কৃষক অনন্যোপায় হয়ে
উৎপাদনের যন্ত্রটা রাখবেই সচল।
কারণ, তাদের আছে পেটের দায়,
দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার দায়।
ঝড়-ঝঞ্ঝা, বন্যা, খরা কিংবা করোনা—
ওদের পথে বাধা নয় কিছুই;
সব বাধা মাড়িয়ে যায় অবলীলায়,
একাকী, নিভৃতে, জীর্ণ-ক্লিষ্ট কায়।
কাজেই আমাদের আহারের ভাবনা?
ভয় নেই, অভাব কখনো হবে না!
তাই আপনারা নিশ্চিন্তে গার্মেন্টস
কিংবা শিল্পখাতগুলো নিয়েই ভাবুন।
কারণ, আপনাদের জিডিপির হিসাবে
কৃষির অবদান শতকরা মাত্র পনেরো কি ষোলো।
কাজেই এসব নিয়ে ভাবলে চলে?
শিল্পখাত বাড়ছে তড়তড়িয়ে,
আমরাও চলেছি দুর্দম বক্ষ ফুলিয়ে,
কৃষিনির্ভরতার দুর্নাম ঘুচিয়ে অচিরেই
আমরা হব শিল্পোন্নত এক জাতি।
আসুন, আমরা সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে রই,
কিছু উন্মাদ বৃথাই কৃষি ও কৃষক নিয়ে আকুল হই।
———————–
ময়মনসিংহ। ২.৪.২০
