শহীদুল ইসলাম – এর

কবিতার খেরোখাতা

 

বিপজ্জনকভাবে বাঁচো: নিৎশের দর্শন থেকে

বিপজ্জনকভাবে বাঁচো: নিৎশের দর্শন থেকে

এই ধরাভূমে তোমার আগমন ও প্রস্থান,
আর জীবনব্যাপী তোমার বেঁচে থাকা—
যদি তাকে অর্থবহ করে তুলতে চাও,
যদি চাও এই পৃথিবীর বুকে
তোমার অস্তিত্বের সর্বাধিক ফলপ্রসূতা,
তবে আরামদায়ক নিরাপদ কোঠরি থেকে
বেরিয়ে এসে বিপজ্জনকভাবে বাঁচো।

জলন্ত ভিসুভিয়াসের ঢালে গড়ো তোমার আবাস,
সফেন সমুদ্রে ভাসাও তোমার ছোট্ট তরীখানি,
দুর্গম, অজানা গন্তব্যপানে ছুটে চলো নিরন্তর।
তবেই পাবে রোমাঞ্চকর জীবনের স্বাদ,
তবেই পাবে অর্থবহ জীবনের আস্বাদ।

মনের গহীনে জেগে ওঠা সত্যকে আলিঙ্গনে
প্রয়োজনে লড়ে যাও নিজের সাথে নিজে,
আর লড়াই করো স্বগোত্র, বন্ধু, প্রিয়জনের সাথেও।

যদি নাও হতে পারো বিজয়ী কিংবা শাসক,
ডাকাত-লুণ্ঠক হয়ে লুটে নাও জ্ঞানীদের জ্ঞান।
সন্ত্রস্ত হরিণীর মতো লুকিয়ে থেকো না
গহীন অরণ্যের কোণে;
বেরিয়ে পড়ো জ্ঞানের সন্ধানে।

কারণ দিনশেষে জ্ঞানই শাসক হওয়ার মূলমন্ত্র—
যদিও তা আজও সত্য নয় এদেশের জন্য।

এলেবেলে ভাবনা

এলেবেলে ভাবনা

খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য অধিকার আইন
এসব নিয়ে ভাবার সময় কই ভাবুক মহলের!
কোটি আমজনতার বুভুক্ষু ঢাউস উদর ভরিয়ে
মস্তিষ্ক শীতল রাখার উপায় খুঁজতেই উনারা গলদঘর্ম,
যাতে বিক্ষোভে না উল্টে যায় ক্ষমতার গদি।

তার জন্য চাই ভরপেট হাইব্রিড চালের মোটা ভাত,
সঙ্গে টুকরো খানেক পাঙাশ, তেলাপিয়া, পোল্ট্রি,
অথবা আলুভর্তা, ডাল, আর সামান্য শাকসবজি—ব্যস।
এজন্য সব বিদেশি না হলে যে চলে না কিছুতেই।
কারণ দেশি মানুষের ফলন বেশি হলেও
দেশি ধান, শাকসবজি, ফলমূল, তেল, ডাল,
গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, মাছ, গাছ—
কোনো কিছুরই ফলন নাকি বেশি নয়।

স্বাদ? পুষ্টিমান? কিংবা মাটি, পানি, পরিবেশ?
ওসব গোল্লায় যাক, তাতে কীই বা আসে যায়!

রাসায়নিক সার, বালাইনাশক বিষ—
এসবে সমস্যা?
আরে ভাই, জন্মালে মরিতেই হবে একদিন,
সুতরাং খেয়ে মরাই ভালো—নয় কি?
বীজ আর খাদ্যের রাজনীতির কথা ভাবছেন?
ভাবছেন, একদিন খাদ্যই হয়ে উঠতে পারে যুদ্ধাস্ত্র?
আরে দূর, এসব আতেল ভাবনা ছাড়েন।

কি বলছেন? যদি কোনোদিন
বিদেশি বীজ আসাই বন্ধ হয়ে যায়, তখন কী হবে?
আরে ভাই, তখনকার কথা তখন ভাবা যাবে।
আগে তো উদর পূর্তি হোক।
নবাগত, আনাগত প্রজন্মের কথা ভাবছেন?
কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কথা?

দূর! আপনি কি জানেন চাল উৎপাদনে
বিশ্বে আমাদের অবস্থান কততম?
আম, কাঁঠাল আর মাছ উৎপাদনে?
এসব কার অবদান?
সেসব নিয়েই ভাবুন, মশাই।
——————
ময়মনসিংহ।। ২৩/১০/২৫

দুই বিশ্ব

দুই বিশ্ব

স্পষ্ট দু’খানা বিশ্ব দেখি বিরাজে জগৎ জুড়ে,
বাহিরেতে তার বহির্বিশ্ব, অন্তর্বিশ্ব অন্তরে।
তৃতীয় বিশ্ব অন্তর্বিশ্বে রয়েছে অন্ধকারে,
বহির্বিশ্বে ধনী বিশ্ব তার চারদিক ঘিরে।

জ্ঞানে-বিজ্ঞানে বহির্বিশ্ব জগতে সর্বসেরা,
বিত্ত-বিভব, অস্ত্র, বাহুবল তাতেও শীর্ষে তারা।
বহির্বিশ্ব চারদিক হতে শোষণ-জাল বিস্তারিয়া,
দারিদ্র্যক্লিষ্ট অন্তর্বিশ্বেরে সদা রাখে ঘিরিয়া।

রেখেছে পাতিয়া অন্তর্বিশ্বে ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল,
চোখের অলক্ষ্যে জোঁকসম তারে শোষিছে চিরকাল।
সেই জালে পড়ি কাঁদে অন্তর্বিশ্ব ঊর্ধ্বপানে চাহি,
দুর্ভেদ্য সেই জাল ভেদিয়া বেরুবার পথ নাহি।

বহির্বিশ্ব রাজাধিরাজ যেন অন্তর্বিশ্ব প্রজা,
শাসন করিছে দু’পায়ে দলে স্বাধীনতার ধ্বজা।
অন্তর্বিশ্বের মসনদখানি সে যে নড়বড়ে অতি,
বহির্বিশ্বের ইঙ্গিতে তার বদলে তখত-পতি।

অন্তর্বিশ্বের রাজনীতি সে তো বহির্বিশ্বের ঘুড়ি,
ইচ্ছেমতো খেলায় তারে দু’হাতে লাটাই ধরি।
অন্তর্বিশ্বের তখত-পতি যবে মসনদ-পরে বসে,
বহির্বিশ্বের অঙ্গুলি হেলনে মুহূর্তে পড়ে ধসে।

শুধু তখত নয় প্রিয় প্রাণটাও হারায় সেইসাথে,
রাজা হবার সাধ যে তাহার হারায় অবেলাতে।
দাতা সাজিয়া বহির্বিশ্ব অন্তর্বিশ্বে ঢুকে,
নির্মম হাতে ছুরিকা চালায় অর্থনীতির বুকে।

বহির্বিশ্ব অন্তর্বিশ্বে রেখেছে সদা জারি,
চোরাকারবার, অস্ত্রপাচার, সন্ত্রাস মারামারি।
জানি না কবে এই অত্যাচারের চির অবসান হবে,
এই জাল ছিঁড়ে সত্যিকারে মুক্তি মিলবে কবে।

আলু-পেঁয়াজ-চাষীর ঈদ

আলু-পেঁয়াজ-চাষীর ঈদ

দিকে দিকে শুনি ঈদের সাজ সাজ রব,
বাজারে, শপিং মলে মানুষের উপচে-পড়া ভিড়।
প্রিয় জিনিসটি কিনবে বলে ছুটছে সবাই ঊর্ধ্বশ্বাসে,
আড়ং-এর আড়ংবাজি নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া।

পত্রিকার পাতাজুড়ে শুধুই ঈদের খবর,
নাড়ির টানে জীবন হাতে ঘরমুখো মানুষের মিছিল।
ভবনে ভবনে আলোসজ্জা, চারদিকে পটকার শব্দ—
আজ ঈদ, বাংলার ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ।

কিন্তু কেমন কাটল লাখো আলুচাষীর ঈদ
কিংবা সেইসব হতভাগ্য পেঁয়াজচাষীর?
যাদের পরিবার বুকভরা আশা নিয়ে ভেবেছিল—
আলু বেচে, পেঁয়াজ বেচে এবার হবে নতুন শাড়ি, লুঙ্গি, জামা;
ঘি-ভাত না হোক, অন্তত জুটবে সেমাই-চিনি,
আর হাঁড়িতে উঠবে একটুখানি মাংসের ঝোল।

কেমন হলো আজ তাদের ঈদ?
জুটল কি নতুন জামা, একটু ভালো খাবার?
চাষীর ঘরের ছোট্ট শিশুটির মনে
জেগেছে কি ঈদের খুশির হিল্লোল?
সে কি নতুন সাজে, চকচকে চোখে,
হেসে-খেলে দল বেধে গিয়েছে ঈদগাহে?

আমি নিশ্চিত জানি—
‘সবই কপালের লিখন’ মনে মনে বলে
কাকভোরে উঠে গোয়ালঘর ঝাড় দিয়েছে সে।
পাশের খালের নোংরা হাঁটুজলে সেরে নিয়েছে স্নান,
নুন-লংকা দিয়ে পান্তাভাত মুখে তুলে
পুরোনো লুঙ্গি, আধছেঁড়া জামা
যা ছিল ঘরে, তাই গায়ে এঁটে
ছুটে গেছে ঈদগাহে—
সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করতে।

এটাও নিশ্চিত জানি, সেই চাষীবউ
কাকভোরে উঠে ঘরদোর দিয়েছে ঝাড়,
গরু-ছাগল-কুঁকড়োগুলোকে খাইয়ে
বসে গেছে উনুনের ধারে।
হয়তো হাঁড়িতে নেই তেমন কিছুই,
তবু সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে
চোখের জল গোপন করে জ্বালিয়েছে আগুন।
হয়তো একমুঠো চাল, একটু ডাল,
অথবা শাকপাতা দিয়ে
ঈদের দিনের রান্না সাজিয়েছে কোনোমতে।

হয়তো সেই চাষী ঈদগাহ থেকে ফিরে
চুপচাপ উঠোনের এক কোণে বসে
আবার কষেছে বেচে থাকার হিসেব-নিকেষ
আবার বুনেছে নতুন কোন ফসলের স্বপ্ন
হয়তো সন্তানের মাথায় হাত রেখে বলেছে –
“মন খারাপ করিস না, বাপ,
আগামী বছর আল্লাহ নিশ্চয় ভালো করবেন।”

এই আশাতেই বেঁচে থাকে চাষী,
এই আশাতেই কেটে যায় তার ঈদ,
এই আশাতেই বাংলার মাটি আজও
শস্যে শস্যে ভরে ওঠে।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়—
যে মানুষটা সবার মুখে অন্ন তুলে দেয়,
তার ঘরেই কেন উৎসবের দিনে
এত অভাব, এত হাহাকার?
যে চাষীর ঘামে বাঁচে দেশ,
তার ঈদ কেন আজও
শুকনো পান্তা, আধছেঁড়া জামা
আর নীরব কান্নার ঈদ হয়ে থাকে?

ক্ষমতা ও দখলের রাজনীতি

ক্ষমতা ও দখলের রাজনীতি

ক্ষমতা আর দখলের মধ্যে… দারুণ সখ্যতা
যেমন মানিকজোড় সখ্যতা দেখি
উঠতি কিশোরী সখীদের মাঝে।

একবার ক্ষমতার দখল পেলেই—
সবকিছু দখল করা যায়… অবলীলায়!
দখলে আসে খাস জমি, জলাশয়
নামমাত্র মূল্যে মিলে রাজউকের লোভনীয় প্লট…
যেগুলো পাওয়ার কথা ছিলো বঞ্চিত যারা
যারাই এগুলোর সত্যিকার মালিক।

একবার ক্ষমতার দখল পেলেই—
দখল করা যায় নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুর,
খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট, রেলের জমি, শ্মশান ঘাট।
বাজার-হাট, টার্মিনাল, অটো-ট্যাম্পু-স্ট্যান্ড,
কিংবা ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর।

একবার ক্ষমতা দখল করা গেলেই—
দখল করা যায় রাষ্ট্রের সবকিছু!
ইউনিয়ন কাউন্সিল থেকে সচিবালয়,
বঙ্গভবন, গণভবন, নিম্ন বা উচ্চ আদালত!
সুপ্রিম কোর্ট থেকে দুদক, পিএসসি,
এটর্নি অফিস থেকে অডিট অফিস—সব!!!

একবার ক্ষমতা দখল করা গেলেই—
দখল করা যায় ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে
ব্যাংক-বীমাসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
এবং দেশের ছোটবড় সব টেন্ডার, ইজারা।
মাটি, আকাশ, বাতাস, সাগর, পাহাড়…
এমনকি আমজনতার মগজ অবধি!

এমন লোভনীয় যে দখলের রাজনীতি—
কে না চায়… এই ক্ষমতার তেলেসমাতি!
————————

ময়মনসিংহ ।। ১৬.৮.২৫

জীবনের দুর্গম পথে

জীবনের দুর্গম পথে

এই জগত সংসারে
মানবের তরে রয়েছে দু’টি পথ
একটা সত্যের আরেকটা অসত্যের।
হয়তোবা তাও নয় কারণ,
আদতে সত্যটা বড্ড আপেক্ষিক
নির্জলা সত্য খুঁজে মেলা ভার।

এ যেন বহুলকথিত পুলসিরাত!
তুমি কী যুধিষ্ঠির হতে চাও
সেতো কল্পকথার সৃষ্টি
অথচ বাস্তবে তা হতে গেলে
অনুক্ষণ মৃত্যুভয় বুকে নিয়ে
তীক্ষ্ণধার ছুরির উপর পথচলা!

তলদেশে গভীর গহীন অন্ধকার
পদে পদে রক্তাক্ত পদযুগল
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে
কখনো যদি এগুবে এতটুকু
থেমে যাবে, পড়ে যাবে মুখ থুবরে
ভারসাম্য ধরে রেখে
বড্ড কঠিন এই পথচলা।

জীবন এমনি কন্টক শয্যাময়
পদে পদে বিপদ, শংকা আর ভয়।
তাই, বাঁচিতে চাহিনা এই কুৎসিত ভুবনে
সকলের আগে আমি মরিবারে চাই
এই কন্টক বনে এই নরকভূমে
একদন্ড আর বাচার সাধ নাই।
—————————–
ময়মনসিংহ ।। ২৫.১২.২০১৯

কোন গ্রামে এক সন্ধ্যায়

কোন গ্রামে এক সন্ধ্যায়

ইট-কাঠ-পাথরের খাচা ছেড়ে
একদিন এক গ্রামে
একটুখানি প্রকৃতির পরশে
পাখির কুজন ছাড়া নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়
দূর থেকে ভেসে আসে মানুষের কন্ঠস্বর।

এখন তাদের অবকাশ কাল চলছে
তাই চাস্টলে আড্ডাবাজিতে ব্যস্ত সবাই
টেলিভিশনে চলছে নাটক-সিনেমা হরদম
সাথে দেশ-বিদেশের খবর
আর যত রাজা উজির মারার গল্প।

এঁরা সব আমজনতা
অধিকাংশই কৃষক অথবা
কৃষি শ্রমিক, অটো-ভ্যান চালক কিংবা
কৃষকের সহযোগী কোন পেশার মানুষ।
ওঁরা জানেনা, শহুরে কোন ফটকাবাজ এসে
গ্রামে গ্রামে তাদের এজেন্ট তৈরি করে
কৃষকের পকেট কাটার ফন্দি আঁটে।

এই এজেন্টদের গডফাদারূপে আছে
ছোট-বড় তথাকথিত জনপ্রতিনিধি
আছে হোন্ডা-গুন্ডা-অস্ত্র, অঢেল অর্থকড়ি
যাদের পকেটে থাকে ক্ষমতার উৎস পুলিশ-প্রশাসন।

কখনো সুষ্ঠু ভোট হলে ওরাই দেয় বাক্স ভরে
অথবা কখনো ভোট না দিলেও সমস্যা হয়না কোন
ওদের মনভোলানো বয়ান বিশ্বাস করে
ওদের শেখানো মুখরোচক শ্লোগানে
মুখরিত করে তুলে আকাশ বাতাস।
————–
নকলা ।। ১৫.০২.২০২৫

এক বিভ্রান্ত জাতি

এক বিভ্রান্ত জাতি

আদতে আমরা এক বিভ্রান্ত জাতি
আরও বড় করে দেখলে এই অস্থির দুনিয়ায়
গোটা মানবজাতিটাই আছে চরম বিভ্রান্তির মাঝে।
কারণ মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্যটা আজও অজানা
এই নিয়ে আছে নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা
আছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের চিরদ্বন্দ্ব।

গন্তব্য জানা থাকলে, চেনা থাকলে পথ
নিকষ অন্ধকারেও দিব্যি পথ চলা যায়।
কিন্তু গন্তব্য অজানা হলে?
একেকজন একেক পথে হাটবে আর
পথ হারিয়ে হাতরাবে উদ্ভ্রান্তের মত।

শুধু কী তাই,
পথের সন্ধানে যখন সকলে উদগ্রীব
তখন কিছু স্বার্থান্ধ মানুষ
দুষ্ট লোকের দেখানো পথে হাটতে চাইবে
দৃঢ়স্বরে বলবে এটাই সঠিক পথ।
আর দলে দলে স্বার্থান্ধ অবুঝ মানুষ
তাদের অনুসারী হয়ে বিপথে যাবে
মন্ত্রমুগ্ধের মত হেটে যাবে বহুদূর
অত:পর যখন ফিরে পাবে সম্বিত
তখন আর ফিরে আসার পাবেনা সময়।
————————
ময়মনসিংহ। ১৪/১১/২৪

এক নির্মম ছবির গল্প

এক নির্মম ছবির গল্প

কী ভয়ংকর নির্মম ছবিটা!
এরচেয়েও শতগুণ নির্মম ছবিও দেখেছি যদিও
যতবার চোখে পড়ে ঝটপট চোখ সরিয়ে নিতে হয়
পর্যাপ্ত আলোতেও ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি
দেখা যায়না কিছুতেই এমন দৃশ্য।

মন ছুটে যায় জুলাই-আগস্টের উত্তাল দিনগুলোতে
কী আবেগ! উদ্বেগ, উৎকন্ঠা নিয়ে
আমরা আধমরা বুড়োরা বদ্ধ ঘরে
ভিপিএন-পথে ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার
কদাচিৎ টিভি স্ক্রিনও চষে বেড়িয়েছি
কী হচ্ছে সেই সত্যটুকু জানতে।

কিন্তু জালিমশাহী আর তদীয় তাবেদার মিডিয়া তখন
মিথ্যের আবরণে সত্য গোপনে তৎপর।
চারিদিকে যত মানুষরূপী অমানুষের ভীরে
কী মানবিক রিক্সাচালক মানুষটা
একটা তাজা প্রাণ বাচাতে ছুটেছে নিরন্তর
হাসপাতাল থেকে হাসপাতালান্তরে
হৃদয়হীন ভীরু স্বার্থপর মানুষের দ্বারে দ্বারে।

কিন্তু না ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান”।
অথচ বয়ান তৈরি হয়,
ওরা নাকি ‘নাশকতাকারী, দুর্বৃত্ত’!
“পুলিশের গুলিতে কেউ নয়, নিজেরাই মরেছে সব
উল্টো নাকি ওরাই মেরেছে
তিন হাজারের বেশি পুলিশ!

এসব মিথ্যে বয়ানের রাজনীতির বেসাতি সাজায়
ক্ষমতার মধুলোভী স্বার্থান্ধ ধূর্ত এলিটদের দল
আর স্বাধীন দেশে প্রজারূপী আমজনতা
সে খেলার পুতুল হয়ে নাচি অনন্তকাল।
এ খেলার শেষ নেই কিছুতেই?
————————–
ময়মনসিংহ। ২০/১১/২৪

বর্গীমুক্তির বাসনা

বর্গীমুক্তির বাসনা

এক নির্জলা সত্য এই যে,
যুগে যুগে শাসকরূপে চেপে বসা
শ্রেফ লুটেরা এক দস্যু শ্রেণি
শ্রমে-ঘামে গায়ের রক্ত পানি করে
দিনরাত প্রাণান্তকর পরিশ্রমে
যাকিছু উৎপাদন করেছে কৃষক ও শ্রমিক
তাতে ভাগ বসিয়েছে কুকুরের মত
অমানবিক নিষ্ঠুরতায় লুটে নিয়ে গেছে
অবুঝ শিশুর মুখের গ্রাসটুকুও।

আর সেই হতভাগা কৃষাণী মাতা
অসহায় চিত্তে গেয়ে চলেছে
অভুক্ত শিশুর জন্য ঘুমপাড়ানি গান
“খোকা ঘুমালো, পাড়া জোড়ালো
বর্গী এলো দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দিব কিসে!”

স্বাধীনতার তিপ্পান্ন বছর পরেও
অলিগার্ক আর মাফিয়ারূপী নব্য বর্গীদের খপ্পরে দেশ
আজও কি বর্গীমুক্ত হলো এই জনপদ?
মুক্তির বাসনায় কত লড়াই, সংগ্রাম
যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী
বৃথাই গেলো কত প্রাণ, অকাতর রক্তদান
আজও কি তাই হবে চব্বিশে এসে?
—————————–
ময়মনসিংহ ।। ১১/১২/২০২৪

এক অবিমৃষ্যকারী জাতির ভবিষ্যৎ

এক অবিমৃষ্যকারী জাতির ভবিষ্যৎ

এই না হলে আমরা বাঙালি!
এক অসভ্য, ইতর, উশৃংখল জাতি আমরা!
দিবস-রজনী আশায় আশায় থাকি
কোন এক দৈত্য দানব এসে
দেশটাকে স্বর্গ বানিয়ে দিয়ে যাবে
আর আমরা বসে বসে মেওয়া ভোজন করব।

এদেশে দিবানিশি ব্যক্তিস্বার্থের ধান্ধা-ফিকির চলে
দেশের স্বার্থ, দশের স্বার্থ দেখার ফুরসত নাহি মিলে।
বিধাতা বানিয়েছিলেন মানুষ জংলি পশুরূপে
দিয়েছিলেন সভ্য হওয়ার জ্ঞান
সেই জ্ঞানের চর্চায় কত জাতি উন্নত হলো
সভ্য হয়ত হয়নি পুরোটা মানবিকতায়
কিন্তু নিয়ম-নীতি, শৃঙ্খলা, আইনের শাসন
এসব চর্চায় নিজের দেশটাকে গড়েছে বাসযোগ্য করে।

আর আমরা আজও রয়ে গেলাম পশুর স্তরে
দেশটাকে বানিয়ে রেখেছি হাবিয়া দোজখ
যেখানে দখল-দুষণ আর নিয়ম ভাঙার মহোৎসব চলে
তুচ্ছ কারণে মারামারি, হানাহানি আমাদের মজ্জাগত
কুকুরের মত হাউমাউ, ঘেউঘেউ, কামড়াকামড়িতে
সারাক্ষণ মেতে থাকি ভুত হয়ে।
ভালোমন্দ বিচারবুদ্ধিটুকুও লোপ পেয়েছে যেন
এমন এক অবিমৃষ্যকারী জাতির ভবিষ্যৎ
সীমাহীন গহীন আধারে ঘেরা।
————————–
ময়মনসিংহ। ২৫/১২/২৪

ঘুষ

ঘুষ

সবাই মোরে ঘৃণাভরে নাম রাখিল ঘুষ,
চুপি চুপি পেতে আমায় রয় না কারো হুশ।
নাম শুনে কি তোমরা সবে করছো মোরে ঘৃণা,
তোমরা হাবা, আমার কদর তাইতো জান না।
কথায় কথায় যারা আমায় ঘৃণায় থুথু ছুড়ে,
সংগোপনে তারাই আবার আমার পিছু ঘুরে।
বড়সড় কর্তারা সব আমায় কদর করে,
পেলে আমায় মনে তাদের আনন্দ না ধরে।
ছোট খাট কর্মচারি তারাও বোকা নয়,
সুযোগ বুঝেই আমায় তারা আপন করে লয়।
কৃষক-শ্রমিক-মুটে-মজুর ওহঃ আর বলো না,
আমি ওদের দু’চোখেতে দেখতে পারি না।
গায়ের লোক? ওদের দেখে আমার লাগে ভয়,
গায়ে আমার অনাদরে স্বাস্থ্য খারাপ হয়।
আমার বাস শহর-নগর অট্টালিকা ’পরে,
শিক্ষিত সব শহরবাসী আমায় যতন করে।
মূর্খের কাছে তাইতো আমি যাইনাকো ভাই কভু
তোমরা তাদের সৎ বলিলেও আমি বলি হবু।
তোমরা তবু আমার নামে দিচ্ছ অপবাদ,
সেই জানে যে পেয়েছে বারেক আমারি আস্বাদ
যতবড় কর্তা বল আদর্শ নীতিবান,
আমায় পেলে আদর্শ সব পালায় পরীস্থান।

বাকৃবি ।। ১৮.০৬.১৯৯৪

ভয়ের রাজ্যে

ভয়ের রাজ্যে

এক ভয়ের রাজ্যে আমাদের অভিশপ্ত জনম
জন্ম থেকে মুত্যু অবধি
ভয়ের সংস্কৃতির দূর্ভেদ্য জালে ঘেরা
এই সমাজ ও রাষ্ট্রে
রেশমগুটির ভিতর সুপ্ত গুটিপোকার মত
বেচে থাকাই আমাদের জীবন।

ভয়ের সাথেই আমাদের নিত্য বসবাস
“চিত্ত যেথা ভয়শুন্য উচ্চ যেথা শির”
বিশ্বকবির এই অবিনাশী বাণী
শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও
এই পোড়াদেশে তা সত্য নয়।

অবোধ শিশুর দূরন্ত শৈশবের
সহজাত দূরন্তপনা নিয়ন্ত্রণে
আমরা অজান্তে ঢুকিয়ে দেই
অযথা অমূলক সব ভয়
জীন-ভুত-পুলিশ-ডাকাত-ছেলেধরা
কিংবা অবোধ-হিংস্র সর্প,
ব্যঘ্র, ভল্লুক, সিংহ কত কী!
স্রষ্টাকে ভয়, রাজাকে ভয়, শিক্ষাগুরুকে ভয়
এমনকি জনক, জননী, অগ্রজ
যাদের হৃদয়ে বহে প্রেম, প্রীতি,
ভালোবাসা, আদর, স্নেহের ফল্গুধারা
অযথা চাপানো ভয়
তাদেরকেও করে তুলে ভয়ংকর।

পাড়ার পাতি মাস্তান থেকে লুটেরা শাসক
চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, খুনি, শীর্ষ সন্ত্রাসী
ইত্যকার সত্যিকারের ভয়ংকর যারা
ভয় দেখানোই যাদের মোক্ষম অস্ত্র
ভয় দেখিয়েই হাসিল করে কামিয়াবি
রাষ্ট্র ও সমাজের মাথার পরে
জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে

নির্মাণ করে চলে ভয়ের সংস্কৃতি
ভয়ের রাজ্যে তারাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
————-
ময়মনসিংহ ।। ২৩/০৮/২০২৩

ব্যবস্থা বদলের স্বপ্ন

ব্যবস্থা বদলের স্বপ্ন

আজব এক ব্যবস্থা চলছে এই দেশে
যুগের পর যুগ জগদ্দল পাথরের বেশে।
ধান্দাবাজি আর লুটপাটে লিপ্ত থেকে সবাই
মুখে মুখে কথামালায় দেশটা বদলাতে চাই।
মিথ্যে বয়ানে ভুলে বঞ্চিত জনতা নামে পথে
রক্ত ঝরায় জীবন বিলায় ফিরে ব্যর্থ মনোরথে।
দেশের এ চিত্রটা সহজেই পাল্টে দেওয়া যায়
শুধু যদি সিস্টেমটাকে একটু বদলানো যায়।

কিন্তু এক আজব জাতি মোরা এই বাঙাল
পশ্চাতে সব খুইয়েও নগদ লাভের কাঙাল ।
সব সমস্যার মূলে আদতে আমরাই
তবু সারাক্ষণ দু’হাতে কপাল চাপরাই
চোখের সামনে অবিরত মারা খাই
তবুও যেন কারও সম্ভিতটুকুও নাই।

সমাধানের পথে মোরা হাটতে নারাজ
যে যার বুঝ নিয়ে চলছে বকোয়াজ
যদি বলি চলো এক হয়ে বদলে দেই নিয়তি
শুধু ধান্ধা খুজে কেউ তাতে দেয়না সম্মতি।
চারিদিকে সবার মাঝেই চলছে নাভিশ্বাস
মিথ্যে আর ভণ্ডামিতে ভরা শুধুই অবিশ্বাস
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর
বিশ্বাসের পুঁজিই পারে এসব জঞ্জাল দূর।

ময়মনসিংহ ।। ২৫.১১.২০০০

দিনবদল কত দূরে

দিনবদল কত দূরে

ব্যবস্থা একখান বানাইছেন বেশ
আপনারা যারা চালান দেশ
আর আপনাদেরই দোসর, সহচর
যত দেশি-বিদেশি কোম্পানি
এবং মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ি
সবাই মিলে ছলে বলে কৌশলে
খাসা, বলিহারি, আহা মরি!

ভালইতো মন্ত্র একখান শিখাইছেন
কৃষকেরে নিয়ে যন্তর-মন্তর ঘরে
“পেট ভরে নাও খাই, ফলন বাড়ানো চাই”
কৃষাণ-জেলে মরবে খেটে কাদাজল ঘেটে
রোদ-বৃষ্টি-ঝরে রক্ত পানি করে
ফলাইবে ফসল, ধরবে মৎস্য
নিরন্তর লড়াই করে
অনন্ত সমস্যা আর বৈরি প্রকৃতির সাথে
আর সেই ফসলে পকেট হবে ভারি
কর্পোরেশন আর মধ্যস্বত্বভোগির।
তাদেরই হবে টাকা কড়ি
বাড়ি গাড়ি আর সুরা নারী
মত্ত রবে দিবানিশি বিলাস জলসায়
যেথা পৌছে যায় অবলীলায়
কাটারিভোগ বা কালিজিরা
সেই চাল যা স্বাদে গন্ধে সেরা
রুই, কাতল, পাবদা, চিতল
নামেতেই জিভে আসে জল
আছে যত মুখরোচক খাদ্য খাবার
দেশের প্রান্ত হতে প্রান্তান্তর ছেকে
পৌছে যায় আপনাদেরই খাবার টেবিলে
যার কিছুটা যায় পেটে বাকিটা ডাস্টবিনে।

আর যারা এসব ধরেন বা ফলান
সেসব কৃষক আর জেলের সন্তান
পায়না খেতে দুবেলা, নিয়ে ক্ষুধার জ্বালা
কাটে বিনিদ্র রাত জুটেনা ডালভাত
ভোগে পুষ্টিহীনতায়, মরে অবেলায়।
চলবে আর কতকাল ধরে।

আজব এই ব্যবস্থাখানি
শুধুই ফাঁকা বুলি আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনি
শুনি মুক্তির অসার বাণী
বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর, নব্বই
দশকের পর দশক চলে যায়
তৃষিত মন শুধুই প্রশ্ন করে যায়
দিনবদল আর কত দূরে ???

ঝিনাইদহ ।।

মানবজীবন

মানবজীবন

নরকতুল্য এই দুনিয়ায় বাঁচতে চাই না বলে
অবলীলায় নিজেকে হনন করে চলি প্রতিদিন—
অযত্নে, অবহেলায়, আলসেমিতে।
ক্রমাগত ধেয়ে চলি মহাজীবনের পানে,
কারণ, কী হবে বেঁচে থেকে পশুদের মতো?

কতটা জরুরি ছিল আমার এই মানবজনম,
কিংবা এই জগতের লক্ষকোটি জীব?
কেন যে জনম লয়, আবার মরণ হয়,
মাঝখানে কত না লড়াই-সংগ্রাম জীবনভর!

এই লড়াইয়ে নিরন্তর যন্ত্রণা আছে,
আঘাত আছে, প্রত্যাঘাত আছে;
আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে
ব্যথা-বেদনায় কুঁকড়ে যাওয়া আছে,
আর আছে অনুক্ষণ মৃত্যুর হাতছানি।

এত কিছুর মাঝেও বেঁচে থাকার আনন্দ আছে—
হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো।
ক্ষণস্থায়ী লড়াই জেতার আনন্দ-সুখ আছে,
সেই সুখের মায়ায়, স্বজনের ভালোবাসায়,
বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টাও আছে—
এই তো মায়াময় মানবজীবন।

ময়মনসিংহ ।।

মানুষ হওয়া কারে বলে

মানুষ হওয়া কারে বলে

আমার তো আছেই উলম্ব দেহের গড়ন,
চলি দুই পায়ে, আছে দুটি হাত,
খাই না তো লতা-গুল্ম-ঘাস,
আছে হাসি-ক্রন্দন, আছে প্রেমময় মন,
আছে বুকভরা আশা, দু’চোখে স্বপন,
আমি বাঁধি ঘর, লয়ে আপনজন।

জ্ঞান-গরিমা, বুদ্ধিতে আমিই জীবশ্রেষ্ঠ।
একদা অসহায় এই আমারই দর্পে আজ
বিশাল ডাইনোসর থেকে সর্প-বিষধর,
সিংহ, ব্যাঘ্র—যত হিংস্র চতুষ্পদ,
দিনে দিনে হচ্ছে বিলীন, অন্তরীণ।
গোটা জীবজগৎ, ভূ-মণ্ডল আজ
লুটায় আমারই যুগল পদতলে।

এ ধরাভূমে আমিই শ্রেষ্ঠ, আমিই সত্য,
সর্বত্র আমারই একচ্ছত্র আধিপত্য।
জগতের যা কিছু সম্পদ—স্থাবর, অস্থাবর,
সব আমারই ভোগ্য, আমারই সব।
মানুষ হয়েছি আমি, গড়েছি নাকি সভ্যতাও।

তবুও তোমরা যে বলো মানুষ হতে—
মানুষ হওয়া কারে বলে, কোন পথে?
—————–
ঝিনাইদহ ।।

বড় নির্মম এই বেঁচে থাকা

বড় নির্মম এই বেঁচে থাকা

বড় নির্মম এই বেঁচে থাকা

মনুষ্যরূপ ধরে চতুষ্পদ জন্তুর মতো,
জীবনভর কাড়াকাড়িতে উদরপূর্তি,
যৌন তাড়নায় বংশবিস্তার,
অতঃপর একদিন সবকিছু পেছনে ফেলে
নিভৃতে নীরব প্রস্থান—
এই তো ক্ষণিকের জীবন।

বড় অসহ্য এ বেঁচে থাকা।

নিজের স্বার্থে গড়া পরাবাস্তবতার ভাগাড়ে
মনুষ্যের পরমধন বিবেকটাকে
আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে একাকার হয়ে যাও
বিবেকহীন হিংস্র পশুর কাতারে।

আর যদি তা না পারো,
মানুষ হওয়ার ইচ্ছেটা যদি হয় বড়,
তবে অবধারিতভাবেই আসবে নেমে
নির্মম গঞ্জনা, যন্ত্রণা সারা জীবনভর—
বড্ড নির্মম এভাবে বেঁচে থাকা।

ঝিনাইদহ ।।

সত্য পথের সন্ধানে

সত্য পথের সন্ধানে

বাম থেকে ডানে
পাতাল থেকে ঊর্ধ্ব গগনে
আমি ছুটে চলি নিরন্তর
সত্যের সন্ধানে সারা জীবনভর।

সত্যপথের দেখা কভু নাহি পাই,
সত্যপথ কি তবে এ ধরায় নাই?
সবই কি তবে গোলকধাঁধা,
তবে কি বৃথাই সত্যসাধা!

যা সত্য তোমার তরে,
আমার তা মনে না ধরে।
আমি যা মানি সত্য বলে,
সে সত্যে তোমার নাহি চলে।

তাই তো জগতে শত শত মত,
তাই তো ছড়িয়ে আছে কত শত পথ।
এসব পথ ও মত মিলে না এক হয়ে,
তবুও সত্যের পিছে মিছে মরি ধেয়ে।
————–
ময়মনসিংহ; ৮.৭.২০

কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা

কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা

কে জানে আর একজন ভুক্তভোগীর মতো
কপর্দকশূন্যতার যন্ত্রণা
কতটা তীব্র, কতটা বেদনাময়।

তুমি যদি বিষয়ী আর চতুর না হও,
কপর্দক যদি না হয় তোমার ক্ষুধা,
তুমি কপর্দকশূন্য হবে নিশ্চিত;
আর তখনই আসবে নেমে
রাজ্যের গঞ্জনা তোমার নিয়তি জুড়ে।
তোমার স্বপ্ন, তোমার আশা—
নিরাশার চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে সব।

তুমি যদি ত্যাগী হও, থাকে সৃষ্টির নেশা,
যতদিন সফল না হবে,
লড়াইটা নিতান্তই একেলার রবে;
ছেড়ে যাবে সবাই, রয়ে যাবে দূরে।

হয়তো তোমার অপার ত্যাগে
যদি মেলে কল্যাণ, সার্বজনীন কল্যাণ,
তবে হয়তো মিলবে গোটাকয় হাততালি।
———————–
ময়মনসিংহ। ৭.৭.২০

করোনাকালের ছড়া

করোনাকালের ছড়া

প্রতি প্রাতে ভাবি যেন
এলো বুঝি শেষ দিন,
প্রতি রাতে স্বস্তি মেলে—
ভালোই গেল একটি দিন।

দিন যায়, দিন আসে,
আশাময় বা আশাহীন,
রুদ্ধশ্বাসে কাটে সময়—
এভাবে আর কতদিন!

এই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চ
সাঙ্গ হবেই একদিন,
এত ভেবে লাভই বা কী—
বাঁচব নাকো চিরদিন।

কেন এলাম, কেন গেলাম,
মেলে না তো হিসাব তার;
নিরুত্তর সেই প্রশ্ন বুকে
বয়ে যাই জীবনভার।
—————-
করোনাকাল, ময়মনসিংহ ।। ১৮/৬/২০

করোনাকালের উপলব্ধি

করোনাকালের উপলব্ধি

করোনায় গৃহবন্দিত্বকালে
কতটুকু বদলালো জীবন,
চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ?

বদলালো কি বিশ্ব এতটুকু?
কিংবা এই দেশ, এই সমাজ—
জীবনাচার, হিংস্র মনুষ্যবেশ,
সর্বগ্রাসী, সর্বনাশী সব ক্রিয়াকাণ্ড?

শুধু এই দ্বিপদ মনুষ্যপ্রজাতি
গিলে খাবে গোটা বিশ্বটাই,
তারপর ছুটবে গ্রহান্তরে,
ধ্বংস করে পৃথিবী নামের গ্রহটাকে—
এই মৃত্যুক্ষুধা কমিল এতটুকু?

নাকি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করেছি শুধু,
অবিরত করেছি হাপিত্যেশ—
কখন খুলবে শপিংমল, উপার্জনশালা,
রাস্তার সুদীর্ঘ জ্যামে ঠাসাঠাসি করে
ঊর্ধ্বশ্বাসে সেথায় ছুটব আবার?

কারণ টাকা চাই, অনেক অনেক টাকা।
জীবন মানে ভোগ, তাই জীবনমানে টাকা—
এই বাজার-অর্থনীতির কালে।
————–
ময়মনসিংহ। ৫/৫/২০

আবোলতাবোল কৃষি ভাবনা

আবোলতাবোল কৃষি ভাবনা

কৃষি ও কৃষক নিয়ে না ভাবলে চলে না?

হ্যাঁ, চলেই তো! দিব্যি চলে যায়!
কারণ, জাতে চাষা-ভূষা, নেই মুখে ভাষা—
মুখ ফুটে তাই টু শব্দটিও করে না।

নীরবে, নিভৃতে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
রাজন্যদের তাই চোখেও পড়ে না।

ভাবনা নেই, কৃষক অনন্যোপায় হয়ে
উৎপাদনের যন্ত্রটা রাখবেই সচল।
কারণ, তাদের আছে পেটের দায়,
দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার দায়।

ঝড়-ঝঞ্ঝা, বন্যা, খরা কিংবা করোনা—
ওদের পথে বাধা নয় কিছুই;
সব বাধা মাড়িয়ে যায় অবলীলায়,
একাকী, নিভৃতে, জীর্ণ-ক্লিষ্ট কায়।

কাজেই আমাদের আহারের ভাবনা?
ভয় নেই, অভাব কখনো হবে না!
তাই আপনারা নিশ্চিন্তে গার্মেন্টস
কিংবা শিল্পখাতগুলো নিয়েই ভাবুন।

কারণ, আপনাদের জিডিপির হিসাবে
কৃষির অবদান শতকরা মাত্র পনেরো কি ষোলো।
কাজেই এসব নিয়ে ভাবলে চলে?

শিল্পখাত বাড়ছে তড়তড়িয়ে,
আমরাও চলেছি দুর্দম বক্ষ ফুলিয়ে,
কৃষিনির্ভরতার দুর্নাম ঘুচিয়ে অচিরেই
আমরা হব শিল্পোন্নত এক জাতি।

আসুন, আমরা সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে রই,
কিছু উন্মাদ বৃথাই কৃষি ও কৃষক নিয়ে আকুল হই।
———————–
ময়মনসিংহ। ২.৪.২০

স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ

স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ

স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ—
লাল, নীল, সবুজ, গাঢ় কিংবা ফ্যাকাশে।
স্বপ্নেরা রঙ বদলায় আলো-আঁধারির খেলায়,
বেলা-অবেলায় সময়ের তালে মিলিয়ে তাল।

স্বপ্নেরও আছে জন্ম, আছে মৃত্যু,
আছে উত্থান, আছে পতন—
ঠিক যেন জীবনের মতো।

স্বপ্নও চায় যতন, লালন-পালন।
যতনে বিকশিত ফুল হয়ে ফুটে,
আবার অযত্নে ঝরে অকালে।

স্বপ্নেরও আছে রকমফের—
বড়, ছোট, লম্বা, খাটো,
আলগা কিংবা আঁটসাঁট,
দীর্ঘস্থায়ী কিংবা ক্ষণস্থায়ী।

এরূপ বিচিত্র স্বপ্ন নিয়েই
বয়ে চলে অবিরাম জীবনের স্রোত
অজানা অসীমের পানে।
———————-
ঝিনাইদহ। ১০.২.১৭

একুশ শতকের গ্রাম

একুশ শতকের গ্রাম

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট-বড় ঘর,
কেহ রয় কুড়েঘরে, কেহ দালানের ভিতর।

মিলেমিশে থাকে না কেউ, বাড়িতেছে অমিল,
একে অপরের ভয়ে দুয়ারে দেয় খিল।

খেলার বয়সী শিশু খেলিতে না পায়,
প্রভাতে উঠিয়া সব কোচিংয়েতে যায়।

আমাদের গ্রামটি যেন বিমাতা সমান,
সবাই মিলে তিলে তিলে বধিছে তার প্রাণ।

মাঠে মাঠে ইটভাটা, ফসলজমিতে বিষ,
কীট, পাখি, প্রজাপতি—মরিছে সব নিঃশেষ।

খাল-বিল, নদী-নালা শুকায়ে জলহীন,
পাবদা, শোল, টেংরা, পুটি হইয়াছে বিলীন।

শাইল, বিন্নী, কুমড়ি, বালাম হারাইলো কবে,
মাঠ ভরিল হাইব্রিড ধানে অধিক ফলনের লোভে।

আম, জাম, বট নেই, নেই বাঁশঝাড়,
টাকার গাছের লোভে সব কাটিয়া সাবাড়।

বিজলীতে গেছে দূরে অমাবস্যার রাতি,
এখন আর দেখা যায় না জোনাকির বাতি।

আজও সকালে সোনার রবি পূব দিকেই উঠে,
নাহি ডাকে পাখি আর, নাহি ফুল ফোটে।
…………
ঝিনাইদহ। ২৪.০১.২০১৭

এলোমেলো জীবন

এলোমেলো জীবন

জীবনটা কেন এমন এলোমেলো?
কালবোশেখির সাইক্লোন কিংবা
সামান্য বাউড়ি বাতাসেই নুয়ে পড়ে।

সুন্দর, পরিপাটি জীবন কি হয় কখনো?
হাসি-আনন্দে ভরা, শুধুই আলোকময়?

চারপাশে দেখি কত রঙিন জীবন,
ঝলমলে, নয়নভোলা,
বাহারি আলোর ঝাড়বাতির মতো।

যা দেখা যায়, সেটাই কি সত্য সবসময়?
ভিতর আর বাহির কি এক হয়?

কন্টকময়, সর্পিল, বন্ধুর জীবনের পথ—
এই জীবনটার তরে আমরা বাঁচি আমরণ,
কত লড়াই, কত সংগ্রাম বুকে নিয়ে।

এই তো জীবন—
বড্ড এলোমেলো।

———
ঝিনাইদহ; ৩০/৬/১৮

নিত্য দূর্ভাবনায় বসবাস

নিত্য দূর্ভাবনায় বসবাস

ভাল্লাগেনা কোনো কিছু
দুর্ভাগ্য ছাড়ে না যে পিছু,
বড্ড জটিল এই সংসার।

যখনই দেখি ক্ষীণ আলো,
ঘনিয়ে আসে আধার কালো,
জাপটে ধরে চারিধার।

কী করিব বিমূঢ় আমি,
দূরভাবনায় কাটে দিবাযামী,
পাই না খুঁজে কূল-কিনার।

খুঁজে ফিরি তীরের দেখা,
অথৈ সাগরে একা একা,
নিয়ে ভয় তলিয়ে যাওয়ার।
—————
ঝিনাইদহ; ২৬.০৬.২০১৮

বহুরূপি জীবন-আকাশ

বহুরূপি জীবন-আকাশ

জীবনটা যেন আকাশের মতো
দুচোখের সীমানাজুড়ে অসীম শূন্যতা,
ক্ষণে ক্ষণে বদলায় রং, রূপ।

গোধূলিবেলায় স্বর্ণালী মেঘসন্ধ্যায়
রাঙা আভায় ঝলকানো চারিধার,
জুড়ায় নয়ন, নেচে ওঠে মন।

কখনো সুনীল জমিনে
থরে থরে সাজানো তারার বাগান,
কখনো বা বসে হেথা চাঁদের হাট,
ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা।

কখনো ছেয়ে যায় কাজলকালো মেঘে,
ঝড়-ঝঞ্ঝা, কালবৈশাখী তছনছ করে সব,
একে একে নিভে যায় সব আলো,
নিকষ কালো আধারে ঘিরে ধরে চারিধার।

এমনি বহুরূপী জীবন-আকাশ,
সেই আকাশেই মানবের চির পথচলা।
———————
ঢাকা, ২৪.৫.২০১৮

দুঃসময়ের ভাবনা

দুঃসময়ের ভাবনা

মাঝে মাঝে যেন পাই মরণের আলিঙ্গন,
মনে হয়, এই বুঝি সব শেষ।
হতাশার শকুনেরা ঘিরে ধরে চারিধার।
কিছুই হলো না করা, যা কিছু করার ছিল;
কিছুই হলো না বলা, যা কিছু বলার ছিল।

চাইনি তো আমি খুব বেশি কিছু,
সবাই যা চায়, ছুটে নিরন্তর যার পিছু,
চাইনি তো কভু তেমন কিছু।
শুধু দুচোখ জুড়ে স্বপ্ন ছিল—
রেখে দিয়ে যাব খানিক পদচিহ্ন
পৃথিবীর বুকে, যাতে অনাদিকালের মানুষ
হয়তো একটু কৌতূহল ভরে জিজ্ঞাসিবে,
“এ কাহার পথচলা, কে সেই পথিক!”

গুরুর কথা শিরোধার্য মেনে
এই কণ্টকাকীর্ণ ধরণীর পথ হতে
দু-একটি কাঁটা দূর করে দিয়ে ছুটি নেব—
এর চেয়ে বেশি কিছু চাইনি তো কভু।

তবু ক্ষমা করো, প্রভু,
ভুল যদি করে থাকি কিছু,
যদি এই চাওয়া হয় খুব বেশি কিছু।
পাই কি বা না পাই কিছু, এই জীবনরথে
সবাই যে যাবে, যেতে হবে একই পথে।
—————
হাসান ক্লিনিক, ঝিনাইদহ ।। ১২.৫.১৮

উৎসবের ধর্ম

উৎসবের ধর্ম

বাংলা নববর্ষ কি আমাদের?
হিন্দুর, না মুসলিমের?
মঙ্গল শোভাযাত্রা কার উৎসব?
এই বাদানুবাদ চলছে অবিরাম।
বিভক্ত জাতির বিভক্তির দেয়াল
দৃঢ় থেকে হচ্ছে দৃঢ়তর।
বাড়ছে হিংসা-বিদ্বেষ, জঙ্গিপনা,
মনে নিয়ে ভয়-ভীতি অনুক্ষণ—
কিসের উৎসব তবে?

বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে
কোন উৎসবটা মুসলমানের?
কোনটা হিন্দুর, বৌদ্ধের বা খ্রিস্টানের?
কোনটা নিখাদ ধর্মীয়, কোনটা বা সকলের?

বহমান কালের ধারায়
উৎসবে মিশেছে ধর্মাচার,
উৎসব আর ধর্ম মিলেমিশে একাকার
হয়ে গেছে প্রশ্নহীনভাবে।

উৎসবের কি ধর্ম আছে কোনো,
নিরেট আনন্দ দান ছাড়া?
আমাদের বহু পরিচয়, বহু বিশ্বাস
মিলেমিশে যায় উৎসবে—
কেন আজ এত প্রশ্ন তবে?

চৈত্রসংক্রান্তি, নববর্ষ,
পৌষ-পার্বণ, নবান্ন,
জারি-সারি-ভাটিয়ালি, পালাপার্বণ,
নাচ-গান, যাত্রাপালা কিংবা
হালের ব্যান্ডসংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র—
কোনটা মুসলমানের জন্য?
কোনটা হিন্দুর, কোনটা বা অন্যের?

তবে হ্যাঁ, প্রশ্ন যখন উঠেছে আজ,
উৎসবের রূপ, রং, সাজ
ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে
সার্বজনীন হয়ে উঠুক;
নির্মল আনন্দের উৎস হোক,
যা এ অস্থির, বিষময় সমাজে
সুস্থতার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য
বড্ড বেশি প্রয়োজন।
———
ঝিনাইদহ
০১ বৈশাখ ১৪২৫

কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮

ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরি কোটা ব্যবস্থার সংস্কার,
আরও জরুরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

কিন্তু কীভাবে হবে তা?
সরকারি চাকরির পদ ক’টা
কোটি কোটি বেকারের তুলনায়?
কিংবা যে সরকারি চাকরির নামের
সোনার হরিণের পিছে ছুটে চলা,
কিংবা বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি—
কতটা লাভ তাতে?

আর কে না জানে সরকারি চাকরির
লোভনীয় সব মুলোর কথা,
কাজ না করেও আয়, উপরি আয়ের কথা।
সরকারি সেবার মান—সে কার না জানা?

ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরি কোটা ব্যবস্থার সংস্কার,
আরও জরুরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
কিন্তু কীভাবে হবে তা?

শিল্পায়ন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ—
কতটা কী হয়েছে, আর কতটাই বা হবে?
কৃষি, গার্মেন্টস আর শ্রমিক রপ্তানির আয়—
এই তো সারাদেশের অর্থনীতি?

কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি কই?
ঘরে ঘরে চাকরির নিশ্চয়তা কই?
ক্ষমতায় যারা, কিংবা ক্ষমতাপ্রত্যাশী,
কি তাদের কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টির?
সেগুলো জানাটাও জরুরি অনেক।
——————————–
ঝিনাইদহ: ১০.০৪.২০১৮

বিমূর্ত হে স্বাধীনতা

বিমূর্ত হে স্বাধীনতা

স্বাধীনতা তুমি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামের
কুচকাওয়াজ শুধু নয়,
ঘুমপাড়ানি কথামালা নয়, গলাবাজি নয়,
স্বপ্নহীনতা আর অজ্ঞানতার আধার নয়,
বৈষম্যহীনতার কাগুজে চেতনা নয়।

ক্ষুধা নয়, দারিদ্র্য নয়,
অশিক্ষা, কুশিক্ষা নয়,
স্বার্থের তরে কুকুরের কাড়াকাড়ি নয়,
তুমি নতুন প্রজন্মের জন্য
বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার
সুতীব্র অঙ্গীকার নিয়ে এসো।

তুমি এমন স্বদেশ দাও,
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।

কে দেবে, কার কাছে চাই!
তুমি যে বিমূর্ত, হে স্বাধীনতা!
যায় না ধরা, যায় না যে ছোঁয়া।
—————————
ঝিনাইদহ: ২৬.৩.২০১৮

ঘুম দিবসের পদ্য

ঘুম দিবসের পদ্য

বাহ! ঘুম দিবসও আছে তাহলে!
দারুণ তো!

জীবনের যত ক্লান্তি-শ্রান্তি,
দুঃখ-ব্যথা-গ্লানি যত,
অশান্তি, অসুখ,
যাতনা-যন্ত্রণা আছে যত—
সব নিমেষে মুছে যায়
যার শান্তিময় ক্রোড়ে,
সে-ই ঘুম, পরম স্বস্তিময়।

বেদনার খাঁ-খাঁ রৌদ্রমাখা
একটি ক্লান্ত দিবস শেষে,
অস্ত গেলে দিনমণি,
শ্রান্ত দুটি আঁখিপাতে
নেমে আসে ঘুম—
জগৎজোড়া এক মহাশান্তি হয়ে।
—————-
ঝিনাইদহ: ১৫.৩.২০১৮

নববর্ষ ২০১৮

নববর্ষ ২০১৮

হাতের পরশ পেয়েই ঘুরতে থাকা
এই ঘড়িটার মতোই যদি সব বদলে যেত,
বদলে দেওয়া যেত সব।
যদি এভাবেই নিমেষে মুছে যেত
দুঃখ, ব্যথা, গ্লানি যত আছে জীবনময়।

যদি সহসা হাজির হতো এক নতুন ভোর,
রক্তিম আভায় নতুন সূর্যটা
যদি দূর করে দিত সকল অন্ধকার,
যদি অবিনাশি আলোয় উঠত ভরে
এক অনন্ত আলোকিত দিবস।

যার প্রত্যাশায় অনন্তকাল
উল্টে যাই ক্যালেন্ডারের পাতা।
কিন্তু তাই কি হয় কখনো?
স্বপ্ন আর মিছে আশাই সার,
বেঁচে থাকার ঠুনকো প্রেরণা।

তবুও সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
শুভ নববর্ষ!
—————————
ঝিনাইদহ: ০১.০১.২০১৮

স্বপ্ন বহুরূপী

স্বপ্ন বহুরূপী

স্বপ্নের আছে অনেক রং—
লাল, নীল, সবুজ, হলুদ,
কোনোটা ঝাঁঝালো, কোনোটা পেলব।

স্বপ্নের আছে অনেক রূপ,
মুহুর্মুহু বদলায় গিরগিটির মতো,
ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না।

স্বপ্নের আছে ভাঙাগড়া,
বহতা নদীর পাড়ের মতো;
হঠাৎ ভাঙে, আবার
তিলে তিলে গড়ে ওঠে বালিয়াড়ির পাড়।

স্বপ্নের আছে জীবন, আছে মৃত্যু,
আছে উত্থান, আছে পতন।

স্বপ্নের আছে তাড়িয়ে বেড়ানোর,
বন্ধুর পথ মাড়িয়ে যাওয়ার
অশেষ শক্তি, অমিত বল।

আমরা যেন স্বপ্নের খেলার পুতুল!
————————-
ঝিনাইদহ: ২৯.১২.২০১৭

নির্ঘুম এক রাতের গল্প

নির্ঘুম এক রাতের গল্প

গত রাতে ঘুমোতে পারিনি একটুও,
বিছানায় শুয়ে শুধু ছটফট করেছি।
যন্ত্রণার শকুনেরা ছিঁড়ে খেয়েছে হৃদপিণ্ড,
আমি নিষ্প্রাণ পাষাণের মতো
নীরবে সয়েছি সব যন্ত্রণা, নীলকণ্ঠ হয়ে।

অথচ কেউ কিছুই জানতে পারেনি—
না কোনো মানুষ, না কোনো নিশাচর,
না ফুল, না পাখি, না বৃক্ষরাজি।

হয়তো সুখের খেয়ায় ভেসে স্বর্গ ছুঁয়েছে সবাই,
প্রকৃতির সকল কর্ম চলেছে যথারীতি।
সারারাত আকাশে উঠেছিল পূর্ণচাঁদ,
নক্ষত্রের মেলাও বসেছিল নিয়মমতো।
প্রাত্যহিক নিয়মে এসেছে আরেকটি ভোর,
ভোরের পাখিরা তুলেছে কূজন,
পূর্বাকাশে উঠেছে রাঙা রবি,
কোথাও ছিল না এতটুকু বিষাদের ছাপ।

শুধু আমার দু’চোখ জুড়ে রাজ্যের ক্লান্তি—
“ক্লান্তি, আমারে ক্ষমা করো প্রভু।”
—————-
ঝিনাইদহ। ১৭.১১.২০১৭

ধর্মের নামে মরণখেলা চলবে কত আর

ধর্মের নামে মরণখেলা চলবে কত আর

মর্মন্তুদ এই মরণখেলা চলবে আর কতকাল,
আঁধার কেটে ফুটবে কবে রক্তিম ভোরের সকাল?

ধর্মের নামে এই হানাহানি থামবে আবার কবে,
হিন্দু নয়, মুসলিম নয়—মানুষ শুধু রবে।

হস্ত-পদ, কর্ণ-নাসিকা, কিংবা শোণিতধারা,
সবার মাঝে একই সত্য—জন্ম, মৃত্যু, জরা।

সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, মান কিংবা অপমান,
আবেগ আর অনুভবে নেই তো কোনো ব্যবধান।

সবাই মানি, স্রষ্টা একজন—হোক না ভিন্ন নাম,
কে জানে শেষপর্যন্ত কী-ই বা হবে মানবের পরিণাম।

তবে এ কিসের বিভেদ বলো, কে শিখিয়েছে তা?
কেনই বা শিখিয়েছে মানুষে মানুষে এই ব্যথা?

তবে কেন এই মরণখেলা, এই রক্তাক্ত কাল?
আঁধার ভেঙে আসবে কবে স্বপ্নভরা সকাল?
—————————
ঝিনাইদহ। ১১.১১.২০১৭

আবোলতাবোল ভাবনা

আবোলতাবোল ভাবনা

কত যে কথা বলার আছে,
কত যে কাজ করার আছে।

কথায় কাজে নিত্যনিশি
যে সুর বাজে বুকের মাঝে,
যে ভাবনা খেলিয়া বেড়ায়
মস্তিষ্কের গোপন কোঠায়,
কেমন করে বলিব সেসব,
করিব সেসব কেমন করে!

হাজারো বাধার পাহাড়
অন্তরে, বাহিরে, সর্বদিকে।
কী যে করি, তাই ভেবে মরি—
আবোলতাবোল।
—————————

ঝিনাইদহ। ১০.১১.২০১৭
অদ্ভূত সময়

অদ্ভূত সময়

সময়, বড়ই অদ্ভুত, রহস্যময়—
কখনো নির্মম, কখনো মধুময়।

কী যে রহস্য লুকিয়ে থাকে
সময়ের ভাঁজে ভাঁজে,
কিছুই তো জানা যায় না আগেভাগে।

কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা,
কিছু অনুমান, কিছু প্রত্যাশা—
এসব নিয়েই দিবানিশি
মনের গহীনে, সময়ের ক্যানভাসে
আঁকি স্বপ্নের আলপনা।

কী হবে আগামীকাল,
পরশু কিংবা তারও পরে—
কে জানে সে খবর, কে জানে পূর্বাপর?
আমরা যে সময়ের ক্রীড়ানক,
কখনো মধুর, কখনো ভয়ানক।
যেমনই হোক সে খেলা,
সয়ে সয়েই কেটে যায় বেলা
সময়ের অতল গহ্বরে।
—————–
ঝিনাইদহ। ০৯.১১.২০১৭

স্বপ্ন-ব্যারাম

স্বপ্ন-ব্যারাম

আমার আছে স্বপ্ন দেখার ব্যারাম।
এই ব্যারামটা যখন মস্তিষ্কে জেঁকে বসে,
তখন দেহের সব ব্যারাম উবে গিয়ে
আমি পাই পথচলার অমিত বল।

আর তখনই চারপাশের অতিসুস্থ
বাস্তবমুখী মানুষগুলো তুলে আহাজারি—
বলে, পাগল আমি, সবই পাগলামি।
পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ায় সকলে,
যার যার দিকে করে টানাটানি;
আর তখন অসহায়, বিভ্রান্ত আমি
থেমে যাই, মুখ থুবড়ে পড়ি।

তখনই শরীর নামের মহাশয়ের
উপর দিয়ে চলা সব অত্যাচার
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় ফুটে ওঠে একে একে।
আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি, থমকে দাঁড়াই,
থেমে যায় পথচলা।

তখন গুরুঠাকুরের “একলা চলো রে” আহ্বান
অদ্ভুত আঁধার-ঘেরা মৃত্যু-উপত্যকায়
আমার বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা হয়ে
আমার চলার শক্তি জোগায়।
আর তখনই গুরুর উপদেশ মাথায় নিয়ে,
জ্বালিয়ে নিই বুকের পাঁজর,
আমি জ্বলি একেলা, প্রাণপণ।
——————
ঝিনাইদহ ।।

পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই

পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই

কেনো জন্ম আমার এই ধরাভূমে,
কেনো এ জীবনের আয়োজন?
উত্তরহীন এই প্রশ্ন অনুক্ষণ কিলবিল করে
মস্তিষ্কের অদৃশ্য কোঠরে।

প্রকৃতির অকৃপণ দানে
তিলে তিলে বেড়ে উঠেছি আমি;
সেবেছি বায়ু, রবির কর,
ক্ষুধায় পেয়েছি অন্ন, তৃষ্ণায় জল,
রজনীর শান্তিময় ক্রোড়ে
ক্লান্ত-শ্রান্ত আমি পেয়েছি শীতল আশ্রয়।

যৌবনা তটিনীর মতো অবিরাম
বয়ে চলে সময়ের স্রোত।
অদূর ভবিষ্যতে একদিন
এ মঞ্জিলের ক্ষণিক বিশ্রাম শেষে
সুদূর অজানায় দেব পাড়ি—
কিন্তু এই-ই কি জন্মের সার?

এই সবুজ ঘাসের ’পরে
এ দু’টি ক্লান্ত পায়ে হেঁটেছি কত,
অথচ তার কোনো পদচিহ্ন
রইবে না কভু—তাই কি হয়?

মনে সাধ, এই সবুজ গালিচার ’পরে
আমার পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই;
এই পথ, এই মাঠ, এই বনছায়ায়
আমার পরে যারা করবে বিচরণ,
এ ধরনীর বুকে আমার আগমনের চিহ্নটুকু
তাদের তরে রেখে যেতে চাই।

কিন্তু কীভাবে? উত্তর জানা নেই—
এ যে বড়ই দুরূহ, দুঃসাধ্য অতি।
এর জন্য চাই জগদীশ্বরের কৃপা।
হে রাজাধিরাজ,
পাব কি আমি কভু তোমারি বর?
—————
বাকৃবি, ২৯/১/১৯৯৪

মনে রেখো এ অধম সন্তানেরে

মনে রেখো এ অধম সন্তানেরে

বসুমতি জননী আমার,
তোমার বিশাল বিস্তৃত ক্রোড়ে
ক্ষুদ্র কীটসম জন্মেছিলাম আমি,
তোমার কোটি সন্তান-মাঝে
এক অধম সন্তানরূপে।

তোমার অপার স্নেহে,
তোমার উদার স্তন্য পান করে
জঞ্জালসম বেড়ে উঠেছি আমি;
বিনিময়ে দিতে পারিনি কিছুই।

তোমার সে অশেষ ঋণ
কিঞ্চিৎ শোধিবার সাধ্যও তো নেই।
হে জননী আমার,
আমায় ক্ষমা কোরো তুমি,
মনে রেখো এ অধম সন্তানরে।
————–
বাকৃবি, ১৭/১/১৯৯৪

অশান্ত হৃদয়

অশান্ত হৃদয়

শান্ত হও, অশান্ত মন মোর,
শান্ত হও এবার।
আমায় নিয়ে খেলবে কত আর
এমন নির্দয় নিষ্ঠুর খেলা?

এই জগতের খেলাঘরে
তোমারই খেলার পুতুল হয়ে
নেমে গেছি কত সকাল-সাঁঝে,
তবু মেটেনি তোমার সাধ।

আমি যে আর সইতে নারি,
বড়ই ক্লান্ত, শ্রান্ত আমি আজ।
হে রঙ্গরাজ,
এবার আমায় দাও ছুটি।
——————–
বাকৃবি। ১৫/১/১৯৯৪

নিদ্রা

নিদ্রা

নিদ্রা, তুমি মহা মায়াময়,
তুমি মানবের চিরসখা, পরম হিতৈষিণী।
আর কে আছে তোমার মতো
এমন ইষ্টকারী মানবের?

তুমি মধুর পরশে মুহূর্তেই
মুছে দাও সব ব্যথা-যন্ত্রণা,
লাঘব কর সকল দুঃখ-কষ্ট।
এ সংসার-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ
তোমার কোলেই খুঁজে পায়
প্রশান্ত, শীতল আশ্রয়।

তুমি অতি মঙ্গলময়,
তুমি জীবনভারে ক্লান্ত মানবকে
দেখাও নবজীবনের স্বপ্ন।
তুমি জাগাও মানবহৃদয়ে
নতুন করে বাঁচার আশা।

তুমি মহা কল্যাণময়,
তোমার কল্যাণেই এখনও মানুষ
এই শ্বাসরুদ্ধকর যান্ত্রিকতায়
টিকে আছে দিব্যি।

নিদ্রা, তুমি অনন্তকাল
এ দুঃখী মানবের প্রাণে
অবিরাম শান্তির নীর ঢেলে দাও।
——————–
বাকৃবি। ১৩/১/১৯৯৪

চাওয়া-পাওয়া

চাওয়া-পাওয়া

চাওয়ার সূত্রে কভু চলে না পাওয়া,
প্রায়শই সে চলে উল্টোরথে।
তবু চাওয়ার তো নেই শেষ—
প্রাণপণে পাওয়ার দ্বারে মাথা কুড়ে মরা।
পাওয়ার কি-ই বা আসে যায় তাতে?
সে তো তারই চিরন্তন অজানা পথে আসবে,
যখন হবে মর্জি তার।

চাওয়া আর পাওয়া—
এ দুয়ের মাঝে বিস্তর ব্যবধান।
ভাগ্যদেবীর আশীর্বাদে কারও কারও বেলায়
হয়তো মিলেও যায় কোনো এক মোহনায়।
তা দেখে হতভাগ্যের মরুতৃষা জাগে,
নিরন্তর ছুটে চলে মরীচিকার পিছু।
অবশেষে যখন ভাঙে সে ভুল,
তখন সম্বল থাকে শুধু হৃদয়ছেড়া দীর্ঘশ্বাস—
ভাগ্যদেবীর বর বড়ই দুর্লভ।
————-
বাকৃবি ।। ৯/১/১৯৯৪

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল,
নিঝুম সন্ধ্যা ঢেকেছে আজ
কৃষ্ণ চাদরে জীবন আমার।

স্বপ্নীল প্রভাত হারিয়েছে সেই কবে,
তারপর হারাল রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর,
অবশেষে হারাল সোনালি বিকেল—
আজ আমি চির-আঁধারের সহচর।

গোধূলির আলো-আঁধারি খেলায়
এ অবোধ আমি ছিলেম বিভোর;
কখন যে নিষ্ঠুর আঁধার এসে
রাহুর মতো গ্রাসিল আমার চারিধার।

আঁধারের বুকে এখন আমি
হাতড়ে ফিরি প্রাণপণে একটুখানি শিখা,
পথহারা পথিকসম খুঁজি পথের দিশা।
——————
বাকৃবি। ৫/১/১৯৯৪

আমি সেথায় যেতে চাই

আমি সেথায় যেতে চাই

ভাল্লাগে না আর এই অশান্ত জনপদ,
আমি সেথায় যেতে চাই—
যেখানে নেই কোনো কোলাহল,
কলকব্জার বিকট নিনাদ, খটর খট, খটর খট,
যন্ত্রদানবের ভোঁ-ভোঁ আওয়াজ,
আর বিভৎস কালো ধোঁয়া,
সীমাহীন দখল, দূষণ, অনাচার।

ভাল্লাগে না এই নিরস যান্ত্রিক সভ্যতা।
আমি সেথায় যেতে চাই—
যেখানে স্বার্থের পিছে নিরন্তর ছুটোছুটি নেই,
লোভ নেই, লালসা নেই,
ক্রোধ নেই, জিঘাংসা নেই,
যেখানে বারুদের উগ্র গন্ধ নেই,
অশান্তির তপ্ত হাওয়া নেই,
ইট-পাথরের নির্মম দেয়াল নেই।

আমি সেথায় যেতে চাই—
যেখানে অর্থ নেই, বিত্ত নেই,
অর্থ-বিত্তের পিছে উন্মত্ত ছুটোছুটি নেই;
যেখানে কান্না নেই, অশ্রু নেই,
যেখানে সন্ত্রাস নেই, রক্তঝরা নেই,
যেখানে খাদ্যহীনতা নেই, পুষ্টিহীনতা নেই,
খাদ্য নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীর রাহাজানি নেই,
যেখানে শোষক নেই, শোষিতের আহাজারি নেই,
যেখানে মিথ্যে নেই, ভণ্ডামি নেই।

আমি সেথায় যেতে চাই—
যেথায় ঊর্ধ্বে উদার নীল আকাশ,
নিম্নে ঘনঘাসে ঢাকা শ্যামল জমিন;
নির্জন নিস্তব্ধতায় ভেসে আসে
দূর বনানী থেকে পাখির কূজন।
গোধূলির আলোয় ভরা চারিধার,
দখিন হাওয়া বয়ে আনে
মাতাল করা কুসুমসুবাস।
আমি সেথায় যেতে চাই চিরতরে,
যেন আর ফিরে না আসি।
————————-
ময়মনসিংহ। ১১/১/১৯৯৪

অগ্নিগর্ভ হৃদয় আমার

অগ্নিগর্ভ হৃদয় আমার

এ বক্ষ আমার যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি—
বাইরে থেকে মনে হয় প্রশান্ত ঘুমে মগ্ন।
কেউ তো দেখে না তার অন্তরাল,
কী দুঃসহ দহনে দগ্ধ হয় অবিরাম;
হৃদপিণ্ড জ্বালানি হয়ে জ্বলে অনুক্ষণ,
কেউ তো দেখে না সেই অদৃশ্য অগ্নিশিখা।

এমনি করেই একদিন
হয়তো ভাঙবে তার তন্দ্রা।
সেদিন দেখবে সবাই এ বুকের জ্বালামুখ,
হৃদপিণ্ড লাভা হয়ে ছিটকে যাবে চারিধার।
ছোপ ছোপ রক্তপিণ্ড,
হয়তো অজান্তেই বেরোবে একফোঁটা দীর্ঘশ্বাস—
এটুকুই পাওনা আমার মানুষের কাছে।
——————
বাকৃবি।। ৭/১/১৯৯৪