টিকে আছি

ভালো-মন্দের আর্থসামাজিক মাত্রা ও পরিমিতি,
কিংবা লাভ-ক্ষতির আর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশ
অদ্যাবধি ওভাবে বুঝে ওঠা হলো না আমার।

এগুলো বোঝার মতো অতটা সমঝদারও আমি কখনো নই।
চালাক, চতুর, বুদ্ধিমান—
শব্দগুলো আমার হয়ে ওঠেনি কখনো।
তবুও যে কিভাবে টিকে আছি এই জনপদে,
সেটাই এক বিপুল বিস্ময়।

অবশ্য ডারউইনবাদ মতে টিকে থাকার
যে যোগ্যতাটুকু অত্যাবশ্যকীয়,
সেটা ছাড়াও টিকে থাকা যায়।
অবশ্য তাকে টিকে থাকা বলা ঠিক হবে কি না,
তা নিয়ে আমার আছে বিস্তর বিভ্রান্তি।

গরু-ছাগল, এমন তাবৎ গৃহপালিত প্রাণিকুল,
তারাও তো দিব্যি টিকে থাকে, শুধু নয়—
কমলাপুরে নগ্নদেহে রাত কাটানো শিশুটির চেয়ে
সহস্রগুণ সুরম্য আবাসে তাদের বসবাস।
পুষ্টিকর ও দামি সব খাদ্য-ওষুধ খাইয়ে-দাইয়ে
এমনই নাদুসনুদুস করে তোলা হয়
একদিন জবাই হয়ে মানুষের খাদ্য হবে বলে।

অথচ সেই নিরীহ শকুন,
যে কিনা পেটের দায়ে বেঁচে থাকার,
কিংবা টিকে থাকার লড়াইয়ে
মৃত প্রাণীর দেহ ভক্ষণ করে থাকত বেঁচে,
তাকে টিকতে দেয়নি মানুষ।

টিকে থাকার লড়াইরত রয়েল বেঙ্গল টাইগার,
কিংবা মানুষখেকো চিতা-সিংহ,
যাদেরকে দর্শনীয় করে টিকিয়ে রাখতে
বিশ্বনেতারা বসে বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে,
যত্ন করে গড়ে তোলে চিড়িয়াখানা,
কিংবা হালের সাফারি পার্ক।

যেমনিভাবে কলকারখানা চালু রাখতে
টিকিয়ে রাখতে হয় শ্রমজীবীদের,
কিংবা আহার যোগাতে টিকিয়ে রাখতে হয়
দাসরূপী কৃষকদের,
তেমনিভাবে টিকে থাকি আমি,
টিকে থাকি আমরা আমজনতা।

—————

ময়মনসিংহ ।। ২৩/৭/২২