শহীদুল ইসলাম

কৃষি গবেষক ও উন্নয়নকর্মী

প্রিয় সুহৃদ,

যে আমার এই লেখাটুকু পড়ছেন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা।

কঠিনকে ভালোবেসে উল্টোস্রোতে পথ চলাই আমার আজন্ম স্বভাব। লক্ষ্য অবশ্য একটাই—নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য এবং আমাদের এই পৃথিবীর জন্য সাধ্যের মধ্যে থেকে ভালো কিছু করা; এই মানবজন্মকে অর্থবহ করার চেষ্টা করা।

স্থায়িত্বশীল কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে যেদিন থেকে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়লাম, সেদিন থেকে এক মুহূর্তের জন্যও ভাবনা থেকে, কর্ম থেকে মুক্ত থাকা যায়নি। এ যেন এক নেশা। নেশা সর্বদাই কোনো না কোনো দিক থেকে ক্ষতিকর। যেমন, আমার এই নেশা আমার ব্যক্তিগত সংসারজীবনকে বিপন্ন করেছে। একজন কৃষক, একজন শ্রমিক যেমন নিঃস্বতার মাঝে নিত্যদিন দিগন্তবিস্তৃত অনিশ্চয়তা নিয়ে এক দুর্গম, বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়, আমি সজ্ঞানে সেই জীবনই বেছে নিয়েছি। কারণ, এর উল্টোদিকে যে জৌলুশভরা, চকচকে, মোহনীয় জীবন—সে পথেও সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে খানিক হেঁটে বুঝেছি, সে পথ আমার নয়। সেই পথ চালাক-চতুর আর বুদ্ধিমানদের।

সবাই তো আর চালাক-চতুর, বিষয়ী হয় না; সমাজে বোকাও আছে প্রচুর। আমি তাদেরই দলভুক্ত। প্রিয় শিল্পী নচিকেতার সেই গানের মতো—
“তবুও আমি বোকাই রব, এটাই আমার অ্যাম্বিশন”
—যা একদা এই যুবকমনে গভীর রেখাপাত করেছিল।

হালের নচিকেতার কিছু গান, নজরুল-সুকান্তের কিছু কবিতা, সমরেশের কিছু উপন্যাস, আর রবীন্দ্রনাথ ও লালনের কিছু প্রবন্ধ, কবিতা ও গান—এসবই শৈশব, কৈশোর ও যৌবনে আমার চিন্তা, ভাবনা ও কর্মকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।

জীবনের এই সায়াহ্নবেলায় এসে একটাই আফসোস—করা হলো না, কিংবা করা গেল না কিছুই। পুরোপুরি চেনা হলো না পথটাও। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতো বেছে নেওয়া হয়নি নিশ্চিত কোনো পথ। প্রশ্ন ছিল—মানুষের মত ও পথ কেন শতধা বিভক্ত?

বাল্যকালে স্রষ্টার কাছে একটাই প্রার্থনা ছিল—
“সহজ-সরল পথ দেখাও।”
সেই মাছুম সময়কার প্রার্থনা কবুল না হওয়ার কারণ দেখি না। তা যদি হয়ে থাকে, তবে কি সঠিক পথেই আছি? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। কারণ, মানুষ নিজের পথটাকেই সঠিক বলে মনে করে। বিভ্রান্তিটা এখানেই।

নানান পথেই হয়তো গন্তব্যে যাওয়া যায়, কিন্তু সহজ-সরল পথ কোনটা? গন্তব্যই বা কী? এক স্রষ্টা, এক মানুষ—তবে কেন এত ভেদাভেদ, কেন এত বিভেদ? কেন সমাজে, সংসারে, দেশে কিংবা গোটা বিশ্বে এত হিংসা, বিদ্বেষ, ফ্যাসাদ, হানাহানি, যুদ্ধ, বিগ্রহ, ধ্বংসযজ্ঞ? সবাই যদি সঠিক পথেই থাকে, তবে কেন এত অনাচার সমাজে, দেশে, দুনিয়াজুড়ে?

এসব সহজ প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ, এখানেও রয়েছে নানান মতের প্রশ্ন, নানান বিশ্বাসের প্রশ্ন—যা কর্মক্ষেত্রকে করে তোলে সংঘাতময়।

কিন্তু কেন এমন হয়?

এই জীবনে এতটুকুই উপলব্ধি—সবই স্বার্থ আর শ্রেষ্ঠত্বের দ্বন্দ্ব। আদতে আমরা সবাই স্বার্থপর। আমরা সবাই শ্রেষ্ঠত্ব চাই। এই উপলব্ধি থেকেই একদা লিখেছিলাম—

আমি বলি, আমিই সর্বশ্রেষ্ঠ
তুমি বলো, তুমিই সকলের শ্রেষ্ঠ
সে বলে, সেই সবার সেরা
শ্রেষ্ঠত্বের দ্বন্দ্বে সদা লিপ্ত আমরা।

সবার জন্য অশেষ শুভকামনা।

আত্নকথা

আমার স্বপ্ন, আমার অঙ্গীকার

যেদিন দিকবিদিক আলোকিত করে মায়ের কোলজুড়ে ‘অদিতি’ এলো, কালরাত্রির ঠিক দু’দিন আগে সেটা ছিল স্বাধীনতার মাস। আগাম কালবৈশাখীর সে রাত্তিরে হৃদয়জুড়ে মিশ্র অনুভূতি— একদিকে আনন্দের উষ্ণ শিহরণ, আরেকদিকে একরাশ শঙ্কা ও ভয়! কারণ, ছাড়পত্র পাওয়া নবজাতকের কাছে সুকান্তের করা দীপ্ত...

আর কত ঝরিবে রক্ত

আর কত ঝরিবে রক্ত, ঝরিবে কত নতুন প্রাণ, জুলুম, শোষণ, নির্যাতনের কবে হবে অবসান। দুর্ভাগা এ জাতিটার অনল-পোড়া ভালে, সুখের ভাগ্য হয়নি লেখা হয়নি কোনকালে। জুলুম, শোষণ, নির্যাতনই মোদের চিরসাথী, দীর্ঘ যুগের প্রতীক্ষাতেও কাটেনি আধার রাতি। কত লড়াই, কত সংগ্রাম, কত নব অভ্যূত্থান,...

স্বপ্ন-ব্যারাম

স্বপ্ন-ব্যারাম

আমার আছে স্বপ্ন দেখার ব্যারাম। এই ব্যারামটা যখন মস্তিষ্কে জেঁকে বসে, তখন দেহের সব ব্যারাম উবে গিয়ে আমি পাই পথচলার অমিত বল। আর তখনই চারপাশের অতিসুস্থ বাস্তবমুখী মানুষগুলো তুলে আহাজারি— বলে, পাগল আমি, সবই পাগলামি। পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ায় সকলে, যার যার দিকে করে টানাটানি; আর...

লেখালেখি

বাণিজ্যিক বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশের কৃষি (অধ্যায়-১২ জেন্ডার ও স্থায়িত্বশীল কৃষি)

বাণিজ্যিক বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশের কৃষি (অধ্যায়-১২ জেন্ডার ও স্থায়িত্বশীল কৃষি)

নারীর হাত ধরে কৃষির সূচনা হলেও বর্তমান রাসায়নিক কৃষি ব্যবস্থায় পুরুষের নিয়ন্ত্রণ ও আদিপত্য ক্রমশ বাড়ছে। কারণ, কৃষি এখন অনেকটাই বাজারনির্ভর। যেহেতু বাজারে নারীদের অভিগম্যতা নেই বললেই চলে তাই কৃষিতেও নারীদের অভিগম্যতা দিন দিন কমছে। উদাহরণস্বরূপ বীজের কথাই ধরা যাক। কৃষক...

বাণিজ্যিক বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশের কৃষি (অধ্যায়-১১ রাসায়নিক কৃষি বনাম স্থায়িত্বশীল কৃষি)

বাণিজ্যিক বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশের কৃষি (অধ্যায়-১১ রাসায়নিক কৃষি বনাম স্থায়িত্বশীল কৃষি)

ইতোপূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, কৃষি এখন বিশ্ব বাণিজ্যের উদীয়মান সেক্টর প্রতিশ্রুতিশীল শিল্প। এই শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপি সবুজ বিপ্লব প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের মাধ্যমে যে কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে তাকে রাসায়নিক কৃষি বলা হয়। ইতোপূর্বে এটাও আলোচিত...

বাণিজ্যিক বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশের কৃষি (অধ্যায়-১০ রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব)

বাণিজ্যিক বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশের কৃষি (অধ্যায়-১০ রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব)

বাংলাদেশে বালাইনাশকের ব্যবহার ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইং প্রথমবারের মতো বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বালাইনাশকের আমদানি করে। সেসময় বিনামূল্যে এসব বালাইনাশক কৃষককে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশ সরকারও ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বালাইনাশকের...

কবিতার খাতা

আলু-পেঁয়াজ-চাষীর ঈদ

আলু-পেঁয়াজ-চাষীর ঈদ

দিকে দিকে শুনি ঈদের সাজ সাজ রব,বাজারে, শপিং মলে মানুষের উপচে-পড়া ভিড়।প্রিয় জিনিসটি কিনবে বলে ছুটছে সবাই ঊর্ধ্বশ্বাসে,আড়ং-এর আড়ংবাজি নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া। পত্রিকার পাতাজুড়ে শুধুই ঈদের খবর,নাড়ির টানে জীবন হাতে ঘরমুখো মানুষের মিছিল।ভবনে ভবনে আলোসজ্জা, চারদিকে পটকার...

ক্ষমতা ও দখলের রাজনীতি

ক্ষমতা ও দখলের রাজনীতি

ক্ষমতা আর দখলের মধ্যে... দারুণ সখ্যতা যেমন মানিকজোড় সখ্যতা দেখি উঠতি কিশোরী সখীদের মাঝে। একবার ক্ষমতার দখল পেলেই— সবকিছু দখল করা যায়... অবলীলায়! দখলে আসে খাস জমি, জলাশয় নামমাত্র মূল্যে মিলে রাজউকের লোভনীয় প্লট... যেগুলো পাওয়ার কথা ছিলো বঞ্চিত যারা যারাই এগুলোর...

জীবনের দুর্গম পথে

জীবনের দুর্গম পথে

এই জগত সংসারে মানবের তরে রয়েছে দু’টি পথ একটা সত্যের আরেকটা অসত্যের। হয়তোবা তাও নয় কারণ, আদতে সত্যটা বড্ড আপেক্ষিক নির্জলা সত্য খুঁজে মেলা ভার। এ যেন বহুলকথিত পুলসিরাত! তুমি কী যুধিষ্ঠির হতে চাও সেতো কল্পকথার সৃষ্টি অথচ বাস্তবে তা হতে গেলে অনুক্ষণ মৃত্যুভয় বুকে নিয়ে...

ভিডিও

ছবি