পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই

পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই

কেনো জন্ম আমার এই ধরাভূমে,
কেনো এ জীবনের আয়োজন?
উত্তরহীন এই প্রশ্ন অনুক্ষণ কিলবিল করে
মস্তিষ্কের অদৃশ্য কোঠরে।

প্রকৃতির অকৃপণ দানে
তিলে তিলে বেড়ে উঠেছি আমি;
সেবেছি বায়ু, রবির কর,
ক্ষুধায় পেয়েছি অন্ন, তৃষ্ণায় জল,
রজনীর শান্তিময় ক্রোড়ে
ক্লান্ত-শ্রান্ত আমি পেয়েছি শীতল আশ্রয়।

যৌবনা তটিনীর মতো অবিরাম
বয়ে চলে সময়ের স্রোত।
অদূর ভবিষ্যতে একদিন
এ মঞ্জিলের ক্ষণিক বিশ্রাম শেষে
সুদূর অজানায় দেব পাড়ি—
কিন্তু এই-ই কি জন্মের সার?

এই সবুজ ঘাসের ’পরে
এ দু’টি ক্লান্ত পায়ে হেঁটেছি কত,
অথচ তার কোনো পদচিহ্ন
রইবে না কভু—তাই কি হয়?

মনে সাধ, এই সবুজ গালিচার ’পরে
আমার পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই;
এই পথ, এই মাঠ, এই বনছায়ায়
আমার পরে যারা করবে বিচরণ,
এ ধরনীর বুকে আমার আগমনের চিহ্নটুকু
তাদের তরে রেখে যেতে চাই।

কিন্তু কীভাবে? উত্তর জানা নেই—
এ যে বড়ই দুরূহ, দুঃসাধ্য অতি।
এর জন্য চাই জগদীশ্বরের কৃপা।
হে রাজাধিরাজ,
পাব কি আমি কভু তোমারি বর?
—————
বাকৃবি, ২৯/১/১৯৯৪

মনে রেখো এ অধম সন্তানেরে

মনে রেখো এ অধম সন্তানেরে

বসুমতি জননী আমার,
তোমার বিশাল বিস্তৃত ক্রোড়ে
ক্ষুদ্র কীটসম জন্মেছিলাম আমি,
তোমার কোটি সন্তান-মাঝে
এক অধম সন্তানরূপে।

তোমার অপার স্নেহে,
তোমার উদার স্তন্য পান করে
জঞ্জালসম বেড়ে উঠেছি আমি;
বিনিময়ে দিতে পারিনি কিছুই।

তোমার সে অশেষ ঋণ
কিঞ্চিৎ শোধিবার সাধ্যও তো নেই।
হে জননী আমার,
আমায় ক্ষমা কোরো তুমি,
মনে রেখো এ অধম সন্তানরে।
————–
বাকৃবি, ১৭/১/১৯৯৪