মনে রেখো এ অধম সন্তানেরে

মনে রেখো এ অধম সন্তানেরে

বসুমতি জননী আমার,
তোমার বিশাল বিস্তৃত ক্রোড়ে
ক্ষুদ্র কীটসম জন্মেছিলাম আমি,
তোমার কোটি সন্তান-মাঝে
এক অধম সন্তানরূপে।

তোমার অপার স্নেহে,
তোমার উদার স্তন্য পান করে
জঞ্জালসম বেড়ে উঠেছি আমি;
বিনিময়ে দিতে পারিনি কিছুই।

তোমার সে অশেষ ঋণ
কিঞ্চিৎ শোধিবার সাধ্যও তো নেই।
হে জননী আমার,
আমায় ক্ষমা কোরো তুমি,
মনে রেখো এ অধম সন্তানরে।
————–
বাকৃবি, ১৭/১/১৯৯৪

অশান্ত হৃদয়

অশান্ত হৃদয়

শান্ত হও, অশান্ত মন মোর,
শান্ত হও এবার।
আমায় নিয়ে খেলবে কত আর
এমন নির্দয় নিষ্ঠুর খেলা?

এই জগতের খেলাঘরে
তোমারই খেলার পুতুল হয়ে
নেমে গেছি কত সকাল-সাঁঝে,
তবু মেটেনি তোমার সাধ।

আমি যে আর সইতে নারি,
বড়ই ক্লান্ত, শ্রান্ত আমি আজ।
হে রঙ্গরাজ,
এবার আমায় দাও ছুটি।
——————–
বাকৃবি। ১৫/১/১৯৯৪

নিদ্রা

নিদ্রা

নিদ্রা, তুমি মহা মায়াময়,
তুমি মানবের চিরসখা, পরম হিতৈষিণী।
আর কে আছে তোমার মতো
এমন ইষ্টকারী মানবের?

তুমি মধুর পরশে মুহূর্তেই
মুছে দাও সব ব্যথা-যন্ত্রণা,
লাঘব কর সকল দুঃখ-কষ্ট।
এ সংসার-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ
তোমার কোলেই খুঁজে পায়
প্রশান্ত, শীতল আশ্রয়।

তুমি অতি মঙ্গলময়,
তুমি জীবনভারে ক্লান্ত মানবকে
দেখাও নবজীবনের স্বপ্ন।
তুমি জাগাও মানবহৃদয়ে
নতুন করে বাঁচার আশা।

তুমি মহা কল্যাণময়,
তোমার কল্যাণেই এখনও মানুষ
এই শ্বাসরুদ্ধকর যান্ত্রিকতায়
টিকে আছে দিব্যি।

নিদ্রা, তুমি অনন্তকাল
এ দুঃখী মানবের প্রাণে
অবিরাম শান্তির নীর ঢেলে দাও।
——————–
বাকৃবি। ১৩/১/১৯৯৪

চাওয়া-পাওয়া

চাওয়া-পাওয়া

চাওয়ার সূত্রে কভু চলে না পাওয়া,
প্রায়শই সে চলে উল্টোরথে।
তবু চাওয়ার তো নেই শেষ—
প্রাণপণে পাওয়ার দ্বারে মাথা কুড়ে মরা।
পাওয়ার কি-ই বা আসে যায় তাতে?
সে তো তারই চিরন্তন অজানা পথে আসবে,
যখন হবে মর্জি তার।

চাওয়া আর পাওয়া—
এ দুয়ের মাঝে বিস্তর ব্যবধান।
ভাগ্যদেবীর আশীর্বাদে কারও কারও বেলায়
হয়তো মিলেও যায় কোনো এক মোহনায়।
তা দেখে হতভাগ্যের মরুতৃষা জাগে,
নিরন্তর ছুটে চলে মরীচিকার পিছু।
অবশেষে যখন ভাঙে সে ভুল,
তখন সম্বল থাকে শুধু হৃদয়ছেড়া দীর্ঘশ্বাস—
ভাগ্যদেবীর বর বড়ই দুর্লভ।
————-
বাকৃবি ।। ৯/১/১৯৯৪

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল,
নিঝুম সন্ধ্যা ঢেকেছে আজ
কৃষ্ণ চাদরে জীবন আমার।

স্বপ্নীল প্রভাত হারিয়েছে সেই কবে,
তারপর হারাল রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর,
অবশেষে হারাল সোনালি বিকেল—
আজ আমি চির-আঁধারের সহচর।

গোধূলির আলো-আঁধারি খেলায়
এ অবোধ আমি ছিলেম বিভোর;
কখন যে নিষ্ঠুর আঁধার এসে
রাহুর মতো গ্রাসিল আমার চারিধার।

আঁধারের বুকে এখন আমি
হাতড়ে ফিরি প্রাণপণে একটুখানি শিখা,
পথহারা পথিকসম খুঁজি পথের দিশা।
——————
বাকৃবি। ৫/১/১৯৯৪