স্বপ্ন বহুরূপী

স্বপ্ন বহুরূপী

স্বপ্নের আছে অনেক রং—
লাল, নীল, সবুজ, হলুদ,
কোনোটা ঝাঁঝালো, কোনোটা পেলব।

স্বপ্নের আছে অনেক রূপ,
মুহুর্মুহু বদলায় গিরগিটির মতো,
ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না।

স্বপ্নের আছে ভাঙাগড়া,
বহতা নদীর পাড়ের মতো;
হঠাৎ ভাঙে, আবার
তিলে তিলে গড়ে ওঠে বালিয়াড়ির পাড়।

স্বপ্নের আছে জীবন, আছে মৃত্যু,
আছে উত্থান, আছে পতন।

স্বপ্নের আছে তাড়িয়ে বেড়ানোর,
বন্ধুর পথ মাড়িয়ে যাওয়ার
অশেষ শক্তি, অমিত বল।

আমরা যেন স্বপ্নের খেলার পুতুল!
————————-
ঝিনাইদহ: ২৯.১২.২০১৭

নির্ঘুম এক রাতের গল্প

নির্ঘুম এক রাতের গল্প

গত রাতে ঘুমোতে পারিনি একটুও,
বিছানায় শুয়ে শুধু ছটফট করেছি।
যন্ত্রণার শকুনেরা ছিঁড়ে খেয়েছে হৃদপিণ্ড,
আমি নিষ্প্রাণ পাষাণের মতো
নীরবে সয়েছি সব যন্ত্রণা, নীলকণ্ঠ হয়ে।

অথচ কেউ কিছুই জানতে পারেনি—
না কোনো মানুষ, না কোনো নিশাচর,
না ফুল, না পাখি, না বৃক্ষরাজি।

হয়তো সুখের খেয়ায় ভেসে স্বর্গ ছুঁয়েছে সবাই,
প্রকৃতির সকল কর্ম চলেছে যথারীতি।
সারারাত আকাশে উঠেছিল পূর্ণচাঁদ,
নক্ষত্রের মেলাও বসেছিল নিয়মমতো।
প্রাত্যহিক নিয়মে এসেছে আরেকটি ভোর,
ভোরের পাখিরা তুলেছে কূজন,
পূর্বাকাশে উঠেছে রাঙা রবি,
কোথাও ছিল না এতটুকু বিষাদের ছাপ।

শুধু আমার দু’চোখ জুড়ে রাজ্যের ক্লান্তি—
“ক্লান্তি, আমারে ক্ষমা করো প্রভু।”
—————-
ঝিনাইদহ। ১৭.১১.২০১৭

ধর্মের নামে মরণখেলা চলবে কত আর

ধর্মের নামে মরণখেলা চলবে কত আর

মর্মন্তুদ এই মরণখেলা চলবে আর কতকাল,
আঁধার কেটে ফুটবে কবে রক্তিম ভোরের সকাল?

ধর্মের নামে এই হানাহানি থামবে আবার কবে,
হিন্দু নয়, মুসলিম নয়—মানুষ শুধু রবে।

হস্ত-পদ, কর্ণ-নাসিকা, কিংবা শোণিতধারা,
সবার মাঝে একই সত্য—জন্ম, মৃত্যু, জরা।

সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, মান কিংবা অপমান,
আবেগ আর অনুভবে নেই তো কোনো ব্যবধান।

সবাই মানি, স্রষ্টা একজন—হোক না ভিন্ন নাম,
কে জানে শেষপর্যন্ত কী-ই বা হবে মানবের পরিণাম।

তবে এ কিসের বিভেদ বলো, কে শিখিয়েছে তা?
কেনই বা শিখিয়েছে মানুষে মানুষে এই ব্যথা?

তবে কেন এই মরণখেলা, এই রক্তাক্ত কাল?
আঁধার ভেঙে আসবে কবে স্বপ্নভরা সকাল?
—————————
ঝিনাইদহ। ১১.১১.২০১৭

আবোলতাবোল ভাবনা

আবোলতাবোল ভাবনা

কত যে কথা বলার আছে,
কত যে কাজ করার আছে।

কথায় কাজে নিত্যনিশি
যে সুর বাজে বুকের মাঝে,
যে ভাবনা খেলিয়া বেড়ায়
মস্তিষ্কের গোপন কোঠায়,
কেমন করে বলিব সেসব,
করিব সেসব কেমন করে!

হাজারো বাধার পাহাড়
অন্তরে, বাহিরে, সর্বদিকে।
কী যে করি, তাই ভেবে মরি—
আবোলতাবোল।
—————————

ঝিনাইদহ। ১০.১১.২০১৭
অদ্ভূত সময়

অদ্ভূত সময়

সময়, বড়ই অদ্ভুত, রহস্যময়—
কখনো নির্মম, কখনো মধুময়।

কী যে রহস্য লুকিয়ে থাকে
সময়ের ভাঁজে ভাঁজে,
কিছুই তো জানা যায় না আগেভাগে।

কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা,
কিছু অনুমান, কিছু প্রত্যাশা—
এসব নিয়েই দিবানিশি
মনের গহীনে, সময়ের ক্যানভাসে
আঁকি স্বপ্নের আলপনা।

কী হবে আগামীকাল,
পরশু কিংবা তারও পরে—
কে জানে সে খবর, কে জানে পূর্বাপর?
আমরা যে সময়ের ক্রীড়ানক,
কখনো মধুর, কখনো ভয়ানক।
যেমনই হোক সে খেলা,
সয়ে সয়েই কেটে যায় বেলা
সময়ের অতল গহ্বরে।
—————–
ঝিনাইদহ। ০৯.১১.২০১৭