উৎসবের ধর্ম

উৎসবের ধর্ম

বাংলা নববর্ষ কি আমাদের?
হিন্দুর, না মুসলিমের?
মঙ্গল শোভাযাত্রা কার উৎসব?
এই বাদানুবাদ চলছে অবিরাম।
বিভক্ত জাতির বিভক্তির দেয়াল
দৃঢ় থেকে হচ্ছে দৃঢ়তর।
বাড়ছে হিংসা-বিদ্বেষ, জঙ্গিপনা,
মনে নিয়ে ভয়-ভীতি অনুক্ষণ—
কিসের উৎসব তবে?

বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে
কোন উৎসবটা মুসলমানের?
কোনটা হিন্দুর, বৌদ্ধের বা খ্রিস্টানের?
কোনটা নিখাদ ধর্মীয়, কোনটা বা সকলের?

বহমান কালের ধারায়
উৎসবে মিশেছে ধর্মাচার,
উৎসব আর ধর্ম মিলেমিশে একাকার
হয়ে গেছে প্রশ্নহীনভাবে।

উৎসবের কি ধর্ম আছে কোনো,
নিরেট আনন্দ দান ছাড়া?
আমাদের বহু পরিচয়, বহু বিশ্বাস
মিলেমিশে যায় উৎসবে—
কেন আজ এত প্রশ্ন তবে?

চৈত্রসংক্রান্তি, নববর্ষ,
পৌষ-পার্বণ, নবান্ন,
জারি-সারি-ভাটিয়ালি, পালাপার্বণ,
নাচ-গান, যাত্রাপালা কিংবা
হালের ব্যান্ডসংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র—
কোনটা মুসলমানের জন্য?
কোনটা হিন্দুর, কোনটা বা অন্যের?

তবে হ্যাঁ, প্রশ্ন যখন উঠেছে আজ,
উৎসবের রূপ, রং, সাজ
ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে
সার্বজনীন হয়ে উঠুক;
নির্মল আনন্দের উৎস হোক,
যা এ অস্থির, বিষময় সমাজে
সুস্থতার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য
বড্ড বেশি প্রয়োজন।
———
ঝিনাইদহ
০১ বৈশাখ ১৪২৫

কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮

ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরি কোটা ব্যবস্থার সংস্কার,
আরও জরুরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

কিন্তু কীভাবে হবে তা?
সরকারি চাকরির পদ ক’টা
কোটি কোটি বেকারের তুলনায়?
কিংবা যে সরকারি চাকরির নামের
সোনার হরিণের পিছে ছুটে চলা,
কিংবা বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি—
কতটা লাভ তাতে?

আর কে না জানে সরকারি চাকরির
লোভনীয় সব মুলোর কথা,
কাজ না করেও আয়, উপরি আয়ের কথা।
সরকারি সেবার মান—সে কার না জানা?

ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরি কোটা ব্যবস্থার সংস্কার,
আরও জরুরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
কিন্তু কীভাবে হবে তা?

শিল্পায়ন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ—
কতটা কী হয়েছে, আর কতটাই বা হবে?
কৃষি, গার্মেন্টস আর শ্রমিক রপ্তানির আয়—
এই তো সারাদেশের অর্থনীতি?

কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি কই?
ঘরে ঘরে চাকরির নিশ্চয়তা কই?
ক্ষমতায় যারা, কিংবা ক্ষমতাপ্রত্যাশী,
কি তাদের কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টির?
সেগুলো জানাটাও জরুরি অনেক।
——————————–
ঝিনাইদহ: ১০.০৪.২০১৮

বিমূর্ত হে স্বাধীনতা

বিমূর্ত হে স্বাধীনতা

স্বাধীনতা তুমি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামের
কুচকাওয়াজ শুধু নয়,
ঘুমপাড়ানি কথামালা নয়, গলাবাজি নয়,
স্বপ্নহীনতা আর অজ্ঞানতার আধার নয়,
বৈষম্যহীনতার কাগুজে চেতনা নয়।

ক্ষুধা নয়, দারিদ্র্য নয়,
অশিক্ষা, কুশিক্ষা নয়,
স্বার্থের তরে কুকুরের কাড়াকাড়ি নয়,
তুমি নতুন প্রজন্মের জন্য
বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার
সুতীব্র অঙ্গীকার নিয়ে এসো।

তুমি এমন স্বদেশ দাও,
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।

কে দেবে, কার কাছে চাই!
তুমি যে বিমূর্ত, হে স্বাধীনতা!
যায় না ধরা, যায় না যে ছোঁয়া।
—————————
ঝিনাইদহ: ২৬.৩.২০১৮

ঘুম দিবসের পদ্য

ঘুম দিবসের পদ্য

বাহ! ঘুম দিবসও আছে তাহলে!
দারুণ তো!

জীবনের যত ক্লান্তি-শ্রান্তি,
দুঃখ-ব্যথা-গ্লানি যত,
অশান্তি, অসুখ,
যাতনা-যন্ত্রণা আছে যত—
সব নিমেষে মুছে যায়
যার শান্তিময় ক্রোড়ে,
সে-ই ঘুম, পরম স্বস্তিময়।

বেদনার খাঁ-খাঁ রৌদ্রমাখা
একটি ক্লান্ত দিবস শেষে,
অস্ত গেলে দিনমণি,
শ্রান্ত দুটি আঁখিপাতে
নেমে আসে ঘুম—
জগৎজোড়া এক মহাশান্তি হয়ে।
—————-
ঝিনাইদহ: ১৫.৩.২০১৮

নববর্ষ ২০১৮

নববর্ষ ২০১৮

হাতের পরশ পেয়েই ঘুরতে থাকা
এই ঘড়িটার মতোই যদি সব বদলে যেত,
বদলে দেওয়া যেত সব।
যদি এভাবেই নিমেষে মুছে যেত
দুঃখ, ব্যথা, গ্লানি যত আছে জীবনময়।

যদি সহসা হাজির হতো এক নতুন ভোর,
রক্তিম আভায় নতুন সূর্যটা
যদি দূর করে দিত সকল অন্ধকার,
যদি অবিনাশি আলোয় উঠত ভরে
এক অনন্ত আলোকিত দিবস।

যার প্রত্যাশায় অনন্তকাল
উল্টে যাই ক্যালেন্ডারের পাতা।
কিন্তু তাই কি হয় কখনো?
স্বপ্ন আর মিছে আশাই সার,
বেঁচে থাকার ঠুনকো প্রেরণা।

তবুও সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
শুভ নববর্ষ!
—————————
ঝিনাইদহ: ০১.০১.২০১৮