অশান্ত হৃদয়

অশান্ত হৃদয়

শান্ত হও, অশান্ত মন মোর,
শান্ত হও এবার।
আমায় নিয়ে খেলবে কত আর
এমন নির্দয় নিষ্ঠুর খেলা?

এই জগতের খেলাঘরে
তোমারই খেলার পুতুল হয়ে
নেমে গেছি কত সকাল-সাঁঝে,
তবু মেটেনি তোমার সাধ।

আমি যে আর সইতে নারি,
বড়ই ক্লান্ত, শ্রান্ত আমি আজ।
হে রঙ্গরাজ,
এবার আমায় দাও ছুটি।
——————–
বাকৃবি। ১৫/১/১৯৯৪

নিদ্রা

নিদ্রা

নিদ্রা, তুমি মহা মায়াময়,
তুমি মানবের চিরসখা, পরম হিতৈষিণী।
আর কে আছে তোমার মতো
এমন ইষ্টকারী মানবের?

তুমি মধুর পরশে মুহূর্তেই
মুছে দাও সব ব্যথা-যন্ত্রণা,
লাঘব কর সকল দুঃখ-কষ্ট।
এ সংসার-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ
তোমার কোলেই খুঁজে পায়
প্রশান্ত, শীতল আশ্রয়।

তুমি অতি মঙ্গলময়,
তুমি জীবনভারে ক্লান্ত মানবকে
দেখাও নবজীবনের স্বপ্ন।
তুমি জাগাও মানবহৃদয়ে
নতুন করে বাঁচার আশা।

তুমি মহা কল্যাণময়,
তোমার কল্যাণেই এখনও মানুষ
এই শ্বাসরুদ্ধকর যান্ত্রিকতায়
টিকে আছে দিব্যি।

নিদ্রা, তুমি অনন্তকাল
এ দুঃখী মানবের প্রাণে
অবিরাম শান্তির নীর ঢেলে দাও।
——————–
বাকৃবি। ১৩/১/১৯৯৪

চাওয়া-পাওয়া

চাওয়া-পাওয়া

চাওয়ার সূত্রে কভু চলে না পাওয়া,
প্রায়শই সে চলে উল্টোরথে।
তবু চাওয়ার তো নেই শেষ—
প্রাণপণে পাওয়ার দ্বারে মাথা কুড়ে মরা।
পাওয়ার কি-ই বা আসে যায় তাতে?
সে তো তারই চিরন্তন অজানা পথে আসবে,
যখন হবে মর্জি তার।

চাওয়া আর পাওয়া—
এ দুয়ের মাঝে বিস্তর ব্যবধান।
ভাগ্যদেবীর আশীর্বাদে কারও কারও বেলায়
হয়তো মিলেও যায় কোনো এক মোহনায়।
তা দেখে হতভাগ্যের মরুতৃষা জাগে,
নিরন্তর ছুটে চলে মরীচিকার পিছু।
অবশেষে যখন ভাঙে সে ভুল,
তখন সম্বল থাকে শুধু হৃদয়ছেড়া দীর্ঘশ্বাস—
ভাগ্যদেবীর বর বড়ই দুর্লভ।
————-
বাকৃবি ।। ৯/১/১৯৯৪

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল

হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল,
নিঝুম সন্ধ্যা ঢেকেছে আজ
কৃষ্ণ চাদরে জীবন আমার।

স্বপ্নীল প্রভাত হারিয়েছে সেই কবে,
তারপর হারাল রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর,
অবশেষে হারাল সোনালি বিকেল—
আজ আমি চির-আঁধারের সহচর।

গোধূলির আলো-আঁধারি খেলায়
এ অবোধ আমি ছিলেম বিভোর;
কখন যে নিষ্ঠুর আঁধার এসে
রাহুর মতো গ্রাসিল আমার চারিধার।

আঁধারের বুকে এখন আমি
হাতড়ে ফিরি প্রাণপণে একটুখানি শিখা,
পথহারা পথিকসম খুঁজি পথের দিশা।
——————
বাকৃবি। ৫/১/১৯৯৪

আমি সেথায় যেতে চাই

আমি সেথায় যেতে চাই

ভাল্লাগে না আর এই অশান্ত জনপদ,
আমি সেথায় যেতে চাই—
যেখানে নেই কোনো কোলাহল,
কলকব্জার বিকট নিনাদ, খটর খট, খটর খট,
যন্ত্রদানবের ভোঁ-ভোঁ আওয়াজ,
আর বিভৎস কালো ধোঁয়া,
সীমাহীন দখল, দূষণ, অনাচার।

ভাল্লাগে না এই নিরস যান্ত্রিক সভ্যতা।
আমি সেথায় যেতে চাই—
যেখানে স্বার্থের পিছে নিরন্তর ছুটোছুটি নেই,
লোভ নেই, লালসা নেই,
ক্রোধ নেই, জিঘাংসা নেই,
যেখানে বারুদের উগ্র গন্ধ নেই,
অশান্তির তপ্ত হাওয়া নেই,
ইট-পাথরের নির্মম দেয়াল নেই।

আমি সেথায় যেতে চাই—
যেখানে অর্থ নেই, বিত্ত নেই,
অর্থ-বিত্তের পিছে উন্মত্ত ছুটোছুটি নেই;
যেখানে কান্না নেই, অশ্রু নেই,
যেখানে সন্ত্রাস নেই, রক্তঝরা নেই,
যেখানে খাদ্যহীনতা নেই, পুষ্টিহীনতা নেই,
খাদ্য নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীর রাহাজানি নেই,
যেখানে শোষক নেই, শোষিতের আহাজারি নেই,
যেখানে মিথ্যে নেই, ভণ্ডামি নেই।

আমি সেথায় যেতে চাই—
যেথায় ঊর্ধ্বে উদার নীল আকাশ,
নিম্নে ঘনঘাসে ঢাকা শ্যামল জমিন;
নির্জন নিস্তব্ধতায় ভেসে আসে
দূর বনানী থেকে পাখির কূজন।
গোধূলির আলোয় ভরা চারিধার,
দখিন হাওয়া বয়ে আনে
মাতাল করা কুসুমসুবাস।
আমি সেথায় যেতে চাই চিরতরে,
যেন আর ফিরে না আসি।
————————-
ময়মনসিংহ। ১১/১/১৯৯৪

অগ্নিগর্ভ হৃদয় আমার

অগ্নিগর্ভ হৃদয় আমার

এ বক্ষ আমার যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি—
বাইরে থেকে মনে হয় প্রশান্ত ঘুমে মগ্ন।
কেউ তো দেখে না তার অন্তরাল,
কী দুঃসহ দহনে দগ্ধ হয় অবিরাম;
হৃদপিণ্ড জ্বালানি হয়ে জ্বলে অনুক্ষণ,
কেউ তো দেখে না সেই অদৃশ্য অগ্নিশিখা।

এমনি করেই একদিন
হয়তো ভাঙবে তার তন্দ্রা।
সেদিন দেখবে সবাই এ বুকের জ্বালামুখ,
হৃদপিণ্ড লাভা হয়ে ছিটকে যাবে চারিধার।
ছোপ ছোপ রক্তপিণ্ড,
হয়তো অজান্তেই বেরোবে একফোঁটা দীর্ঘশ্বাস—
এটুকুই পাওনা আমার মানুষের কাছে।
——————
বাকৃবি।। ৭/১/১৯৯৪