Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
মর্মন্তুদ এই মরণখেলা চলবে আর কতকাল,
আঁধার কেটে ফুটবে কবে রক্তিম ভোরের সকাল?
ধর্মের নামে এই হানাহানি থামবে আবার কবে,
হিন্দু নয়, মুসলিম নয়—মানুষ শুধু রবে।
হস্ত-পদ, কর্ণ-নাসিকা, কিংবা শোণিতধারা,
সবার মাঝে একই সত্য—জন্ম, মৃত্যু, জরা।
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, মান কিংবা অপমান,
আবেগ আর অনুভবে নেই তো কোনো ব্যবধান।
সবাই মানি, স্রষ্টা একজন—হোক না ভিন্ন নাম,
কে জানে শেষপর্যন্ত কী-ই বা হবে মানবের পরিণাম।
তবে এ কিসের বিভেদ বলো, কে শিখিয়েছে তা?
কেনই বা শিখিয়েছে মানুষে মানুষে এই ব্যথা?
তবে কেন এই মরণখেলা, এই রক্তাক্ত কাল?
আঁধার ভেঙে আসবে কবে স্বপ্নভরা সকাল?
—————————
ঝিনাইদহ। ১১.১১.২০১৭
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
কত যে কথা বলার আছে,
কত যে কাজ করার আছে।
কথায় কাজে নিত্যনিশি
যে সুর বাজে বুকের মাঝে,
যে ভাবনা খেলিয়া বেড়ায়
মস্তিষ্কের গোপন কোঠায়,
কেমন করে বলিব সেসব,
করিব সেসব কেমন করে!
হাজারো বাধার পাহাড়
অন্তরে, বাহিরে, সর্বদিকে।
কী যে করি, তাই ভেবে মরি—
আবোলতাবোল।
—————————
ঝিনাইদহ। ১০.১১.২০১৭
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
সময়, বড়ই অদ্ভুত, রহস্যময়—
কখনো নির্মম, কখনো মধুময়।
কী যে রহস্য লুকিয়ে থাকে
সময়ের ভাঁজে ভাঁজে,
কিছুই তো জানা যায় না আগেভাগে।
কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা,
কিছু অনুমান, কিছু প্রত্যাশা—
এসব নিয়েই দিবানিশি
মনের গহীনে, সময়ের ক্যানভাসে
আঁকি স্বপ্নের আলপনা।
কী হবে আগামীকাল,
পরশু কিংবা তারও পরে—
কে জানে সে খবর, কে জানে পূর্বাপর?
আমরা যে সময়ের ক্রীড়ানক,
কখনো মধুর, কখনো ভয়ানক।
যেমনই হোক সে খেলা,
সয়ে সয়েই কেটে যায় বেলা
সময়ের অতল গহ্বরে।
—————–
ঝিনাইদহ। ০৯.১১.২০১৭
Aug 8, 2025 | আত্নকথা, কবিতার খাতা
আমার আছে স্বপ্ন দেখার ব্যারাম।
এই ব্যারামটা যখন মস্তিষ্কে জেঁকে বসে,
তখন দেহের সব ব্যারাম উবে গিয়ে
আমি পাই পথচলার অমিত বল।
আর তখনই চারপাশের অতিসুস্থ
বাস্তবমুখী মানুষগুলো তুলে আহাজারি—
বলে, পাগল আমি, সবই পাগলামি।
পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ায় সকলে,
যার যার দিকে করে টানাটানি;
আর তখন অসহায়, বিভ্রান্ত আমি
থেমে যাই, মুখ থুবড়ে পড়ি।
তখনই শরীর নামের মহাশয়ের
উপর দিয়ে চলা সব অত্যাচার
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় ফুটে ওঠে একে একে।
আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি, থমকে দাঁড়াই,
থেমে যায় পথচলা।
তখন গুরুঠাকুরের “একলা চলো রে” আহ্বান
অদ্ভুত আঁধার-ঘেরা মৃত্যু-উপত্যকায়
আমার বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা হয়ে
আমার চলার শক্তি জোগায়।
আর তখনই গুরুর উপদেশ মাথায় নিয়ে,
জ্বালিয়ে নিই বুকের পাঁজর,
আমি জ্বলি একেলা, প্রাণপণ।
——————
ঝিনাইদহ ।।
Aug 7, 2025 | আত্নকথা, কবিতার খাতা
কেনো জন্ম আমার এই ধরাভূমে,
কেনো এ জীবনের আয়োজন?
উত্তরহীন এই প্রশ্ন অনুক্ষণ কিলবিল করে
মস্তিষ্কের অদৃশ্য কোঠরে।
প্রকৃতির অকৃপণ দানে
তিলে তিলে বেড়ে উঠেছি আমি;
সেবেছি বায়ু, রবির কর,
ক্ষুধায় পেয়েছি অন্ন, তৃষ্ণায় জল,
রজনীর শান্তিময় ক্রোড়ে
ক্লান্ত-শ্রান্ত আমি পেয়েছি শীতল আশ্রয়।
যৌবনা তটিনীর মতো অবিরাম
বয়ে চলে সময়ের স্রোত।
অদূর ভবিষ্যতে একদিন
এ মঞ্জিলের ক্ষণিক বিশ্রাম শেষে
সুদূর অজানায় দেব পাড়ি—
কিন্তু এই-ই কি জন্মের সার?
এই সবুজ ঘাসের ’পরে
এ দু’টি ক্লান্ত পায়ে হেঁটেছি কত,
অথচ তার কোনো পদচিহ্ন
রইবে না কভু—তাই কি হয়?
মনে সাধ, এই সবুজ গালিচার ’পরে
আমার পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই;
এই পথ, এই মাঠ, এই বনছায়ায়
আমার পরে যারা করবে বিচরণ,
এ ধরনীর বুকে আমার আগমনের চিহ্নটুকু
তাদের তরে রেখে যেতে চাই।
কিন্তু কীভাবে? উত্তর জানা নেই—
এ যে বড়ই দুরূহ, দুঃসাধ্য অতি।
এর জন্য চাই জগদীশ্বরের কৃপা।
হে রাজাধিরাজ,
পাব কি আমি কভু তোমারি বর?
—————
বাকৃবি, ২৯/১/১৯৯৪
Aug 7, 2025 | আত্নকথা, কবিতার খাতা
বসুমতি জননী আমার,
তোমার বিশাল বিস্তৃত ক্রোড়ে
ক্ষুদ্র কীটসম জন্মেছিলাম আমি,
তোমার কোটি সন্তান-মাঝে
এক অধম সন্তানরূপে।
তোমার অপার স্নেহে,
তোমার উদার স্তন্য পান করে
জঞ্জালসম বেড়ে উঠেছি আমি;
বিনিময়ে দিতে পারিনি কিছুই।
তোমার সে অশেষ ঋণ
কিঞ্চিৎ শোধিবার সাধ্যও তো নেই।
হে জননী আমার,
আমায় ক্ষমা কোরো তুমি,
মনে রেখো এ অধম সন্তানরে।
————–
বাকৃবি, ১৭/১/১৯৯৪