জীবনের দুর্গম পথে

জীবনের দুর্গম পথে

এই জগত সংসারে
মানবের তরে রয়েছে দু’টি পথ
একটা সত্যের আরেকটা অসত্যের।
হয়তোবা তাও নয় কারণ,
আদতে সত্যটা বড্ড আপেক্ষিক
নির্জলা সত্য খুঁজে মেলা ভার।

এ যেন বহুলকথিত পুলসিরাত!
তুমি কী যুধিষ্ঠির হতে চাও
সেতো কল্পকথার সৃষ্টি
অথচ বাস্তবে তা হতে গেলে
অনুক্ষণ মৃত্যুভয় বুকে নিয়ে
তীক্ষ্ণধার ছুরির উপর পথচলা!

তলদেশে গভীর গহীন অন্ধকার
পদে পদে রক্তাক্ত পদযুগল
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে
কখনো যদি এগুবে এতটুকু
থেমে যাবে, পড়ে যাবে মুখ থুবরে
ভারসাম্য ধরে রেখে
বড্ড কঠিন এই পথচলা।

জীবন এমনি কন্টক শয্যাময়
পদে পদে বিপদ, শংকা আর ভয়।
তাই, বাঁচিতে চাহিনা এই কুৎসিত ভুবনে
সকলের আগে আমি মরিবারে চাই
এই কন্টক বনে এই নরকভূমে
একদন্ড আর বাচার সাধ নাই।
—————————–
ময়মনসিংহ ।। ২৫.১২.২০১৯

কোন গ্রামে এক সন্ধ্যায়

কোন গ্রামে এক সন্ধ্যায়

ইট-কাঠ-পাথরের খাচা ছেড়ে
একদিন এক গ্রামে
একটুখানি প্রকৃতির পরশে
পাখির কুজন ছাড়া নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়
দূর থেকে ভেসে আসে মানুষের কন্ঠস্বর।

এখন তাদের অবকাশ কাল চলছে
তাই চাস্টলে আড্ডাবাজিতে ব্যস্ত সবাই
টেলিভিশনে চলছে নাটক-সিনেমা হরদম
সাথে দেশ-বিদেশের খবর
আর যত রাজা উজির মারার গল্প।

এঁরা সব আমজনতা
অধিকাংশই কৃষক অথবা
কৃষি শ্রমিক, অটো-ভ্যান চালক কিংবা
কৃষকের সহযোগী কোন পেশার মানুষ।
ওঁরা জানেনা, শহুরে কোন ফটকাবাজ এসে
গ্রামে গ্রামে তাদের এজেন্ট তৈরি করে
কৃষকের পকেট কাটার ফন্দি আঁটে।

এই এজেন্টদের গডফাদারূপে আছে
ছোট-বড় তথাকথিত জনপ্রতিনিধি
আছে হোন্ডা-গুন্ডা-অস্ত্র, অঢেল অর্থকড়ি
যাদের পকেটে থাকে ক্ষমতার উৎস পুলিশ-প্রশাসন।

কখনো সুষ্ঠু ভোট হলে ওরাই দেয় বাক্স ভরে
অথবা কখনো ভোট না দিলেও সমস্যা হয়না কোন
ওদের মনভোলানো বয়ান বিশ্বাস করে
ওদের শেখানো মুখরোচক শ্লোগানে
মুখরিত করে তুলে আকাশ বাতাস।
————–
নকলা ।। ১৫.০২.২০২৫

এক বিভ্রান্ত জাতি

এক বিভ্রান্ত জাতি

আদতে আমরা এক বিভ্রান্ত জাতি
আরও বড় করে দেখলে এই অস্থির দুনিয়ায়
গোটা মানবজাতিটাই আছে চরম বিভ্রান্তির মাঝে।
কারণ মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্যটা আজও অজানা
এই নিয়ে আছে নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা
আছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের চিরদ্বন্দ্ব।

গন্তব্য জানা থাকলে, চেনা থাকলে পথ
নিকষ অন্ধকারেও দিব্যি পথ চলা যায়।
কিন্তু গন্তব্য অজানা হলে?
একেকজন একেক পথে হাটবে আর
পথ হারিয়ে হাতরাবে উদ্ভ্রান্তের মত।

শুধু কী তাই,
পথের সন্ধানে যখন সকলে উদগ্রীব
তখন কিছু স্বার্থান্ধ মানুষ
দুষ্ট লোকের দেখানো পথে হাটতে চাইবে
দৃঢ়স্বরে বলবে এটাই সঠিক পথ।
আর দলে দলে স্বার্থান্ধ অবুঝ মানুষ
তাদের অনুসারী হয়ে বিপথে যাবে
মন্ত্রমুগ্ধের মত হেটে যাবে বহুদূর
অত:পর যখন ফিরে পাবে সম্বিত
তখন আর ফিরে আসার পাবেনা সময়।
————————
ময়মনসিংহ। ১৪/১১/২৪

এক নির্মম ছবির গল্প

এক নির্মম ছবির গল্প

কী ভয়ংকর নির্মম ছবিটা!
এরচেয়েও শতগুণ নির্মম ছবিও দেখেছি যদিও
যতবার চোখে পড়ে ঝটপট চোখ সরিয়ে নিতে হয়
পর্যাপ্ত আলোতেও ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি
দেখা যায়না কিছুতেই এমন দৃশ্য।

মন ছুটে যায় জুলাই-আগস্টের উত্তাল দিনগুলোতে
কী আবেগ! উদ্বেগ, উৎকন্ঠা নিয়ে
আমরা আধমরা বুড়োরা বদ্ধ ঘরে
ভিপিএন-পথে ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার
কদাচিৎ টিভি স্ক্রিনও চষে বেড়িয়েছি
কী হচ্ছে সেই সত্যটুকু জানতে।

কিন্তু জালিমশাহী আর তদীয় তাবেদার মিডিয়া তখন
মিথ্যের আবরণে সত্য গোপনে তৎপর।
চারিদিকে যত মানুষরূপী অমানুষের ভীরে
কী মানবিক রিক্সাচালক মানুষটা
একটা তাজা প্রাণ বাচাতে ছুটেছে নিরন্তর
হাসপাতাল থেকে হাসপাতালান্তরে
হৃদয়হীন ভীরু স্বার্থপর মানুষের দ্বারে দ্বারে।

কিন্তু না ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান”।
অথচ বয়ান তৈরি হয়,
ওরা নাকি ‘নাশকতাকারী, দুর্বৃত্ত’!
“পুলিশের গুলিতে কেউ নয়, নিজেরাই মরেছে সব
উল্টো নাকি ওরাই মেরেছে
তিন হাজারের বেশি পুলিশ!

এসব মিথ্যে বয়ানের রাজনীতির বেসাতি সাজায়
ক্ষমতার মধুলোভী স্বার্থান্ধ ধূর্ত এলিটদের দল
আর স্বাধীন দেশে প্রজারূপী আমজনতা
সে খেলার পুতুল হয়ে নাচি অনন্তকাল।
এ খেলার শেষ নেই কিছুতেই?
————————–
ময়মনসিংহ। ২০/১১/২৪

বর্গীমুক্তির বাসনা

বর্গীমুক্তির বাসনা

এক নির্জলা সত্য এই যে,
যুগে যুগে শাসকরূপে চেপে বসা
শ্রেফ লুটেরা এক দস্যু শ্রেণি
শ্রমে-ঘামে গায়ের রক্ত পানি করে
দিনরাত প্রাণান্তকর পরিশ্রমে
যাকিছু উৎপাদন করেছে কৃষক ও শ্রমিক
তাতে ভাগ বসিয়েছে কুকুরের মত
অমানবিক নিষ্ঠুরতায় লুটে নিয়ে গেছে
অবুঝ শিশুর মুখের গ্রাসটুকুও।

আর সেই হতভাগা কৃষাণী মাতা
অসহায় চিত্তে গেয়ে চলেছে
অভুক্ত শিশুর জন্য ঘুমপাড়ানি গান
“খোকা ঘুমালো, পাড়া জোড়ালো
বর্গী এলো দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দিব কিসে!”

স্বাধীনতার তিপ্পান্ন বছর পরেও
অলিগার্ক আর মাফিয়ারূপী নব্য বর্গীদের খপ্পরে দেশ
আজও কি বর্গীমুক্ত হলো এই জনপদ?
মুক্তির বাসনায় কত লড়াই, সংগ্রাম
যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী
বৃথাই গেলো কত প্রাণ, অকাতর রক্তদান
আজও কি তাই হবে চব্বিশে এসে?
—————————–
ময়মনসিংহ ।। ১১/১২/২০২৪