সত্য পথের সন্ধানে

সত্য পথের সন্ধানে

বাম থেকে ডানে
পাতাল থেকে ঊর্ধ্ব গগনে
আমি ছুটে চলি নিরন্তর
সত্যের সন্ধানে সারা জীবনভর।

সত্যপথের দেখা কভু নাহি পাই,
সত্যপথ কি তবে এ ধরায় নাই?
সবই কি তবে গোলকধাঁধা,
তবে কি বৃথাই সত্যসাধা!

যা সত্য তোমার তরে,
আমার তা মনে না ধরে।
আমি যা মানি সত্য বলে,
সে সত্যে তোমার নাহি চলে।

তাই তো জগতে শত শত মত,
তাই তো ছড়িয়ে আছে কত শত পথ।
এসব পথ ও মত মিলে না এক হয়ে,
তবুও সত্যের পিছে মিছে মরি ধেয়ে।
————–
ময়মনসিংহ; ৮.৭.২০

কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা

কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা

কে জানে আর একজন ভুক্তভোগীর মতো
কপর্দকশূন্যতার যন্ত্রণা
কতটা তীব্র, কতটা বেদনাময়।

তুমি যদি বিষয়ী আর চতুর না হও,
কপর্দক যদি না হয় তোমার ক্ষুধা,
তুমি কপর্দকশূন্য হবে নিশ্চিত;
আর তখনই আসবে নেমে
রাজ্যের গঞ্জনা তোমার নিয়তি জুড়ে।
তোমার স্বপ্ন, তোমার আশা—
নিরাশার চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে সব।

তুমি যদি ত্যাগী হও, থাকে সৃষ্টির নেশা,
যতদিন সফল না হবে,
লড়াইটা নিতান্তই একেলার রবে;
ছেড়ে যাবে সবাই, রয়ে যাবে দূরে।

হয়তো তোমার অপার ত্যাগে
যদি মেলে কল্যাণ, সার্বজনীন কল্যাণ,
তবে হয়তো মিলবে গোটাকয় হাততালি।
———————–
ময়মনসিংহ। ৭.৭.২০

করোনাকালের ছড়া

করোনাকালের ছড়া

প্রতি প্রাতে ভাবি যেন
এলো বুঝি শেষ দিন,
প্রতি রাতে স্বস্তি মেলে—
ভালোই গেল একটি দিন।

দিন যায়, দিন আসে,
আশাময় বা আশাহীন,
রুদ্ধশ্বাসে কাটে সময়—
এভাবে আর কতদিন!

এই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চ
সাঙ্গ হবেই একদিন,
এত ভেবে লাভই বা কী—
বাঁচব নাকো চিরদিন।

কেন এলাম, কেন গেলাম,
মেলে না তো হিসাব তার;
নিরুত্তর সেই প্রশ্ন বুকে
বয়ে যাই জীবনভার।
—————-
করোনাকাল, ময়মনসিংহ ।। ১৮/৬/২০

করোনাকালের উপলব্ধি

করোনাকালের উপলব্ধি

করোনায় গৃহবন্দিত্বকালে
কতটুকু বদলালো জীবন,
চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ?

বদলালো কি বিশ্ব এতটুকু?
কিংবা এই দেশ, এই সমাজ—
জীবনাচার, হিংস্র মনুষ্যবেশ,
সর্বগ্রাসী, সর্বনাশী সব ক্রিয়াকাণ্ড?

শুধু এই দ্বিপদ মনুষ্যপ্রজাতি
গিলে খাবে গোটা বিশ্বটাই,
তারপর ছুটবে গ্রহান্তরে,
ধ্বংস করে পৃথিবী নামের গ্রহটাকে—
এই মৃত্যুক্ষুধা কমিল এতটুকু?

নাকি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করেছি শুধু,
অবিরত করেছি হাপিত্যেশ—
কখন খুলবে শপিংমল, উপার্জনশালা,
রাস্তার সুদীর্ঘ জ্যামে ঠাসাঠাসি করে
ঊর্ধ্বশ্বাসে সেথায় ছুটব আবার?

কারণ টাকা চাই, অনেক অনেক টাকা।
জীবন মানে ভোগ, তাই জীবনমানে টাকা—
এই বাজার-অর্থনীতির কালে।
————–
ময়মনসিংহ। ৫/৫/২০

আবোলতাবোল কৃষি ভাবনা

আবোলতাবোল কৃষি ভাবনা

কৃষি ও কৃষক নিয়ে না ভাবলে চলে না?

হ্যাঁ, চলেই তো! দিব্যি চলে যায়!
কারণ, জাতে চাষা-ভূষা, নেই মুখে ভাষা—
মুখ ফুটে তাই টু শব্দটিও করে না।

নীরবে, নিভৃতে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
রাজন্যদের তাই চোখেও পড়ে না।

ভাবনা নেই, কৃষক অনন্যোপায় হয়ে
উৎপাদনের যন্ত্রটা রাখবেই সচল।
কারণ, তাদের আছে পেটের দায়,
দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার দায়।

ঝড়-ঝঞ্ঝা, বন্যা, খরা কিংবা করোনা—
ওদের পথে বাধা নয় কিছুই;
সব বাধা মাড়িয়ে যায় অবলীলায়,
একাকী, নিভৃতে, জীর্ণ-ক্লিষ্ট কায়।

কাজেই আমাদের আহারের ভাবনা?
ভয় নেই, অভাব কখনো হবে না!
তাই আপনারা নিশ্চিন্তে গার্মেন্টস
কিংবা শিল্পখাতগুলো নিয়েই ভাবুন।

কারণ, আপনাদের জিডিপির হিসাবে
কৃষির অবদান শতকরা মাত্র পনেরো কি ষোলো।
কাজেই এসব নিয়ে ভাবলে চলে?

শিল্পখাত বাড়ছে তড়তড়িয়ে,
আমরাও চলেছি দুর্দম বক্ষ ফুলিয়ে,
কৃষিনির্ভরতার দুর্নাম ঘুচিয়ে অচিরেই
আমরা হব শিল্পোন্নত এক জাতি।

আসুন, আমরা সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে রই,
কিছু উন্মাদ বৃথাই কৃষি ও কৃষক নিয়ে আকুল হই।
———————–
ময়মনসিংহ। ২.৪.২০

স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ

স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ

স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ—
লাল, নীল, সবুজ, গাঢ় কিংবা ফ্যাকাশে।
স্বপ্নেরা রঙ বদলায় আলো-আঁধারির খেলায়,
বেলা-অবেলায় সময়ের তালে মিলিয়ে তাল।

স্বপ্নেরও আছে জন্ম, আছে মৃত্যু,
আছে উত্থান, আছে পতন—
ঠিক যেন জীবনের মতো।

স্বপ্নও চায় যতন, লালন-পালন।
যতনে বিকশিত ফুল হয়ে ফুটে,
আবার অযত্নে ঝরে অকালে।

স্বপ্নেরও আছে রকমফের—
বড়, ছোট, লম্বা, খাটো,
আলগা কিংবা আঁটসাঁট,
দীর্ঘস্থায়ী কিংবা ক্ষণস্থায়ী।

এরূপ বিচিত্র স্বপ্ন নিয়েই
বয়ে চলে অবিরাম জীবনের স্রোত
অজানা অসীমের পানে।
———————-
ঝিনাইদহ। ১০.২.১৭