Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরি কোটা ব্যবস্থার সংস্কার,
আরও জরুরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
কিন্তু কীভাবে হবে তা?
সরকারি চাকরির পদ ক’টা
কোটি কোটি বেকারের তুলনায়?
কিংবা যে সরকারি চাকরির নামের
সোনার হরিণের পিছে ছুটে চলা,
কিংবা বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি—
কতটা লাভ তাতে?
আর কে না জানে সরকারি চাকরির
লোভনীয় সব মুলোর কথা,
কাজ না করেও আয়, উপরি আয়ের কথা।
সরকারি সেবার মান—সে কার না জানা?
ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরি কোটা ব্যবস্থার সংস্কার,
আরও জরুরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
কিন্তু কীভাবে হবে তা?
শিল্পায়ন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ—
কতটা কী হয়েছে, আর কতটাই বা হবে?
কৃষি, গার্মেন্টস আর শ্রমিক রপ্তানির আয়—
এই তো সারাদেশের অর্থনীতি?
কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি কই?
ঘরে ঘরে চাকরির নিশ্চয়তা কই?
ক্ষমতায় যারা, কিংবা ক্ষমতাপ্রত্যাশী,
কি তাদের কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টির?
সেগুলো জানাটাও জরুরি অনেক।
——————————–
ঝিনাইদহ: ১০.০৪.২০১৮
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
স্বাধীনতা তুমি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামের
কুচকাওয়াজ শুধু নয়,
ঘুমপাড়ানি কথামালা নয়, গলাবাজি নয়,
স্বপ্নহীনতা আর অজ্ঞানতার আধার নয়,
বৈষম্যহীনতার কাগুজে চেতনা নয়।
ক্ষুধা নয়, দারিদ্র্য নয়,
অশিক্ষা, কুশিক্ষা নয়,
স্বার্থের তরে কুকুরের কাড়াকাড়ি নয়,
তুমি নতুন প্রজন্মের জন্য
বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার
সুতীব্র অঙ্গীকার নিয়ে এসো।
তুমি এমন স্বদেশ দাও,
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।
কে দেবে, কার কাছে চাই!
তুমি যে বিমূর্ত, হে স্বাধীনতা!
যায় না ধরা, যায় না যে ছোঁয়া।
—————————
ঝিনাইদহ: ২৬.৩.২০১৮
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
বাহ! ঘুম দিবসও আছে তাহলে!
দারুণ তো!
জীবনের যত ক্লান্তি-শ্রান্তি,
দুঃখ-ব্যথা-গ্লানি যত,
অশান্তি, অসুখ,
যাতনা-যন্ত্রণা আছে যত—
সব নিমেষে মুছে যায়
যার শান্তিময় ক্রোড়ে,
সে-ই ঘুম, পরম স্বস্তিময়।
বেদনার খাঁ-খাঁ রৌদ্রমাখা
একটি ক্লান্ত দিবস শেষে,
অস্ত গেলে দিনমণি,
শ্রান্ত দুটি আঁখিপাতে
নেমে আসে ঘুম—
জগৎজোড়া এক মহাশান্তি হয়ে।
—————-
ঝিনাইদহ: ১৫.৩.২০১৮
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
হাতের পরশ পেয়েই ঘুরতে থাকা
এই ঘড়িটার মতোই যদি সব বদলে যেত,
বদলে দেওয়া যেত সব।
যদি এভাবেই নিমেষে মুছে যেত
দুঃখ, ব্যথা, গ্লানি যত আছে জীবনময়।
যদি সহসা হাজির হতো এক নতুন ভোর,
রক্তিম আভায় নতুন সূর্যটা
যদি দূর করে দিত সকল অন্ধকার,
যদি অবিনাশি আলোয় উঠত ভরে
এক অনন্ত আলোকিত দিবস।
যার প্রত্যাশায় অনন্তকাল
উল্টে যাই ক্যালেন্ডারের পাতা।
কিন্তু তাই কি হয় কখনো?
স্বপ্ন আর মিছে আশাই সার,
বেঁচে থাকার ঠুনকো প্রেরণা।
তবুও সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
শুভ নববর্ষ!
—————————
ঝিনাইদহ: ০১.০১.২০১৮
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
স্বপ্নের আছে অনেক রং—
লাল, নীল, সবুজ, হলুদ,
কোনোটা ঝাঁঝালো, কোনোটা পেলব।
স্বপ্নের আছে অনেক রূপ,
মুহুর্মুহু বদলায় গিরগিটির মতো,
ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না।
স্বপ্নের আছে ভাঙাগড়া,
বহতা নদীর পাড়ের মতো;
হঠাৎ ভাঙে, আবার
তিলে তিলে গড়ে ওঠে বালিয়াড়ির পাড়।
স্বপ্নের আছে জীবন, আছে মৃত্যু,
আছে উত্থান, আছে পতন।
স্বপ্নের আছে তাড়িয়ে বেড়ানোর,
বন্ধুর পথ মাড়িয়ে যাওয়ার
অশেষ শক্তি, অমিত বল।
আমরা যেন স্বপ্নের খেলার পুতুল!
————————-
ঝিনাইদহ: ২৯.১২.২০১৭
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
গত রাতে ঘুমোতে পারিনি একটুও,
বিছানায় শুয়ে শুধু ছটফট করেছি।
যন্ত্রণার শকুনেরা ছিঁড়ে খেয়েছে হৃদপিণ্ড,
আমি নিষ্প্রাণ পাষাণের মতো
নীরবে সয়েছি সব যন্ত্রণা, নীলকণ্ঠ হয়ে।
অথচ কেউ কিছুই জানতে পারেনি—
না কোনো মানুষ, না কোনো নিশাচর,
না ফুল, না পাখি, না বৃক্ষরাজি।
হয়তো সুখের খেয়ায় ভেসে স্বর্গ ছুঁয়েছে সবাই,
প্রকৃতির সকল কর্ম চলেছে যথারীতি।
সারারাত আকাশে উঠেছিল পূর্ণচাঁদ,
নক্ষত্রের মেলাও বসেছিল নিয়মমতো।
প্রাত্যহিক নিয়মে এসেছে আরেকটি ভোর,
ভোরের পাখিরা তুলেছে কূজন,
পূর্বাকাশে উঠেছে রাঙা রবি,
কোথাও ছিল না এতটুকু বিষাদের ছাপ।
শুধু আমার দু’চোখ জুড়ে রাজ্যের ক্লান্তি—
“ক্লান্তি, আমারে ক্ষমা করো প্রভু।”
—————-
ঝিনাইদহ। ১৭.১১.২০১৭